ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারি টানান, লম্বা পোশাক পরুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মশারি টানিয়ে ঘুমানো, ফুলহাতা শার্ট এবং লম্বা পায়জামা বা লুঙ্গি পরার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দেশব্যাপী মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার কিট ও রিএজেন্ট পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বর্তমানে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য ১ লাখ স্যালাইন ব্যাগও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে এবং সরকারি নির্ধারিত হারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছেন।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ৮ হাজার ৯৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। এর আগের বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হলেও সরকার পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখছে না। পরিস্থিতি অবনতি হলে তা মোকাবিলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশা নিধন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।