প্রচণ্ড গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকারী কিছু খাবার

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখাই প্রধান কাজ। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে ভুল খাদ্যাভ্যাস শরীরকে আরও বেশি ক্লান্ত এবং অসুস্থ করে তুলতে পারে। গরমে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পানিশূন্যতা (Dehydration) রোধ করতে হালকা, সহজে হজম হয় এবং পানি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত।
শরীর ঠাণ্ডা রাখবে যেসব ফল ও সবজি
প্রকৃতি নিজেই গরমের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের মৌসুমি ফল ও সবজির জোগান দেয়।
-
ফলমূল: তরমুজ ও বাঙ্গিতে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে, যা শরীরের পানির অভাব দ্রুত পূরণ করে। এছাড়া শসা, ডাবের পানি, লেবু, কমলা, আনারস, পেঁপে এবং আঙুর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি জরুরি ভিটামিনের জোগান দেয়।
-
সবজি: দুপুরের মেন্যুতে লাউ, ঝিঙে, পটল, করলা, চাল কুমড়া এবং বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি রাখা উচিত। এগুলো শরীরে অতিরিক্ত তাপ জমতে দেয় না এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।
পানি জাতীয় ও ঐতিহ্যবাহী হালকা খাবার
গরমের দিনে ভারী বা কড়া পাকের খাবারের বদলে বাঙালি সংস্কৃতির কিছু ঐতিহ্যবাহী ও হালকা খাবার শরীরকে পরম শান্তি দেয়:
-
পাতলা ডাল ও সবজি স্যুপ: এগুলো শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
-
দই ও চিঁড়া: টক দই, লাচ্ছি এবং চিঁড়া-দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পেট ঠাণ্ডা রাখে।
-
জাউ ভাত ও খুদের ভাত: পেটের ওপর বাড়তি চাপ না ফেলে শরীরকে শক্তি দেয়।
গরমে স্বস্তিদায়ক কিছু পানীয়
বাইরের কৃত্রিম রঙ ও কেমিকেলযুক্ত ঠাণ্ডা পানীয়র চেয়ে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক পানীয় পানের পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ডাবের পানি, ঘরে বানানো লেবুর শরবত, বেলের শরবত, তোকমা বীজের শরবত কিংবা পুদিনা-লেবুর পানি শরীরের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক সতেজতা এনে দেয়।
গরমে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
কিছু খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হজমে গোলমাল পাকায়, তাই এগুলো কম খাওয়াই ভালো:
-
অতিরিক্ত ঝাল ও খুব বেশি তেলযুক্ত খাবার।
-
ভাজাপোড়া বা ফাস্টফুড।
-
কোমল পানীয় (Soft drinks) ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়।
-
অতিরিক্ত চা ও কফি (যা শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেট করে)।
সুস্থ থাকার ৫টি গোল্ডেন টিপস
১. পর্যাপ্ত পানি পান: প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস (২.৫ থেকে ৩ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
২. হালকা লাঞ্চ: দুপুরের কড়া রোদে ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. পানি সঙ্গে রাখুন: বাইরে বের হওয়ার সময় সবসময় নিরাপদ পানির বোতল সাথে রাখুন।
৪. মৌসুমি ফল: কৃত্রিম ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক মৌসুমি ফল বেশি খান।
৫. রোদ থেকে সুরক্ষা: দুপুরের অতিরিক্ত কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।