রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে, কমেছে ঋণ বিতরণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান, গ্রাহকদের পাল্টা কর্মসূচি সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: জুবাইদা রহমান গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে সাইবার বুলিং বিষয়ে আইআরআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক তিশার লাজুক হাসি নজর কাড়ল ভক্তদের ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, সৎ সাহস থাকলে আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: ১০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
  • সবাইকে খুশি রাখার চাপে কি নিজেকে হারাচ্ছেন?

    সবাইকে খুশি রাখার চাপে কি নিজেকে হারাচ্ছেন?
    এ আই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষ সামাজিক প্রাণী, তাই সমাজে সবার সাথে মানিয়ে চলা এবং অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করা একটি স্বাভাবিক মানবিক বৈশিষ্ট্য। ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় ভদ্র হতে, মানিয়ে চলতে এবং অন্যের মন জুগিয়ে চলতে। তবে এই প্রবণতা যখন মাত্রারিক্ত হয়ে যায়, তখন তা আর নিছক ভদ্রতা থাকে না; বরং রূপ নেয় এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিতে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেওয়ার এই প্রবণতা মানুষকে একসময় সম্পূর্ণ আত্মপরিচয়হীন করে তোলে।

    ‘পিপল-প্লিজিং বিহেভিয়ার’ ও মানসিক ঝুঁকি

    মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অতিরিক্ত মানিয়ে চলার মানসিকতাকে বলা হয় “পিপল-প্লিজিং বিহেভিয়ার” (People-Pleasing Behavior)। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (American Psychological Association)-এর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সবসময় অন্যের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে চলেন, তাদের আত্মসম্মানবোধ (Self-esteem) দিন দিন কমতে থাকে। নিজের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে অন্যের প্রত্যাশা পূরণে ব্যস্ত থাকায় এদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। দীর্ঘদিন নিজের অনুভূতি ও ইচ্ছা দমন করতে করতে একসময় এরা তীব্র হতাশা ও মানসিক অবসাদে (Burnout) ভোগেন এবং নিজের আসল চাওয়া-পাওয়াগুলোই ভুলে যান।

    “না” বলতে না পারার খেসারত

    সামাজিক গবেষণা বলছে, অন্যদের খুশি করার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ক্ষয়। যারা নিজের সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট সীমানা (Boundary) নির্ধারণ করতে পারেন না এবং কাউকে “না” বলতে শেখেননি, চারপাশের মানুষ অজান্তেই তাদের ব্যবহার (Take for granted) করতে শুরু করে। এই ধরণের মানুষরা বাইরে হাসিখুশি ভাব বজায় রাখলেও ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভ, চাপ ও অভিমান বয়ে বেড়ান। নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের লাগাম অন্যের হাতে চলে যাওয়ায় একসময় তাদের আত্মবিশ্বাস শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

    সহমর্মিতা বনাম স্বার্থপরতা

    মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অন্যকে সাহায্য করা, সহমর্মিতা দেখানো বা ভালোবাসা প্রকাশ করা মানবিকতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান ও নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখা। নিজের অনুভূতির মূল্য দেওয়া কিংবা নিজের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে প্রকাশ করা কোনো স্বার্থপরতা নয়; বরং এটি সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ। অন্যকে খুশি করার আগে নিজেকে সম্মান করতে শেখা জরুরি, অন্যথায় কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী বা ভারসাম্যপূর্ণ হয় না।

    বিশেষজ্ঞদের বার্তা: ভারসাম্যই জীবনের মূলমন্ত্র

    সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর সবাইকে একসাথে সন্তুষ্ট করা কখনোই সম্ভব নয়। অন্যদের মুখে হাসি ফোটানো অবশ্যই মহৎ কাজ, তবে সেই হাসির বিনিময়ে যদি নিজের অস্তিত্ব ও স্বপ্ন হারিয়ে যায়, তবে তা কখনোই প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারে না।

    জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নিজের প্রতি সৎ থাকা। নিজের সুখ এবং অন্যের ভালো লাগার মাঝে একটি সুস্থ সমতা বা ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো প্রকৃত মানবিকতা। তাই অন্য কারও প্রত্যাশার আলো হওয়ার আগে মাঝে মাঝে নিজেকেও প্রশ্ন করা উচিত—"আমি কি সত্যিই ভালো আছি?"


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ