রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উপ-শাখায় আমানত বেড়েছে, কমেছে ঋণ বিতরণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান, গ্রাহকদের পাল্টা কর্মসূচি সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: জুবাইদা রহমান গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করতে হবে সাইবার বুলিং বিষয়ে আইআরআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক তিশার লাজুক হাসি নজর কাড়ল ভক্তদের ঘুপচি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, সৎ সাহস থাকলে আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা: ১০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
  • স্ত্রীর মন জয় করতে চাইলে নিয়ে যান শপিংয়ে

    স্ত্রীর মন জয় করতে চাইলে নিয়ে যান শপিংয়ে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দাম্পত্য জীবনে সুখ-দুঃখ, মান-অভিমান এবং মানসিক ওঠানামা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সংসারের দায়িত্ব, সন্তান লালন ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক সময় নারীরা, বিশেষ করে গৃহিণীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন। এই বাস্তবতায় অনেক স্বামীই লক্ষ্য করেন, ছোট্ট একটি শপিং ট্রিপ স্ত্রীর মন মুহূর্তেই ভালো করে দেয়। অনেকেই এটিকে কৌতুক হিসেবে দেখলেও বাস্তবে মনোবিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণাও এই ধারণার পেছনে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সত্যতা খুঁজে পেয়েছে।

    মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কেনাকাটার সময় মানুষের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ (Dopamine) নামক এক ধরণের নিউরোট্রান্সমিটার বা হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দ ও তৃপ্তি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার সাইকোলজি জার্নাল-এ (Consumer Psychology Journal) প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের পছন্দমতো কিছু কেনা মানুষকে এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়, যা মনস্তাত্ত্বিক অবসাদ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

    ভারতীয় সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় পাওয়া গেছে, গৃহিণীরা যখন নিজের জন্য পোশাক বা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন, তখন তাদের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। একইভাবে, বাংলাদেশে পারিবারিক আচরণ বিষয়ক কয়েকটি সামাজিক জরিপে দেখা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বাইরে ঘুরে শপিং করা স্ত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শপিং এখানে শুধু পণ্য কেনা নয়, বরং এক ধরণের মানসিক রিফ্রেশমেন্ট হিসেবে কাজ করে।

    শপিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি দাম্পত্য জীবনে আবেগীয় সংযোগ বাড়ায়। যখন স্বামী তাঁর স্ত্রীর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে শপিংয়ে নিয়ে যান, তখন স্ত্রী নিজেকে মূল্যায়িত ও সম্মানিত মনে করেন। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সন্তুষ্টি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা যৌথ সময় কাটানো, আর শপিং সেই যৌথ সময় কাটানোর একটি সহজ ও বাস্তব উপায় হয়ে ওঠে।

    তবে শপিংকে মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা একটি জরুরি সতর্কতা দিয়েছেন। তাদের মতে, শপিং যেন কোনোভাবেই ঋণগ্রস্ততা বা অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত কেনাকাটা উল্টো পারিবারিক মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে; তাই পরিকল্পিত ও সীমিত শপিংই প্রকৃত আনন্দ দেয়।

    প্রকৃতপক্ষে, শপিং নিজে কোনো জাদুকরি ওষুধ না হলেও এটি দাম্পত্য ভালোবাসার একটি কার্যকর প্রকাশভঙ্গি। কখনো একটি শাড়ি, কখনো ছোট উপহার, আবার কখনো শুধু একসঙ্গে বাজারে হাঁটা সম্পর্ককে নতুন প্রাণ দেয়। স্ত্রীর মন ভালো করার আসল শক্তি আসলে ভালোবাসা, সময় এবং গুরুত্ব দেওয়া; শপিং সেই ভালোবাসার একটি দৃশ্যমান রূপ মাত্র।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ