পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক পরিবেশ সৃষ্টি না করতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে ঘিরে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতের প্রতি জোর দাবি জানান এবং বলেন, সুসম্পর্ক চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তাদের বক্তব্য ও আচরণের মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করতে হবে।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বার্থ ও নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, “এটি কোনো একক দল বা সরকারের বিষয় নয়, এটি জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।”
মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আধিপত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল সেই আন্দোলন।
সরকারের পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ উদ্যোগকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি নতুনভাবে শুরু করা হয়েছে, যাতে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চায় না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।