আগামী ৫ বছরে আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের ঘোষণা

আগামী পাঁচ বছরে দেশের আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সরকার টেলিকম খাতকে আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপন, টেলিকম অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, টেলিকম খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসঙ্গে ৫জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি ও ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তির বিস্তারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহকবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, গ্রামীণ এলাকায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ৫জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতে কাজ করছে এবং এ খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে দেশের জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তিনি জানান, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, ৫জি, ডাটা সেন্টার, এআই এবং সাইবার নিরাপত্তাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সঠিক নীতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে প্রযুক্তিখাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।