ইরান পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, পদত্যাগ এক কর্মকর্তার

মোহাম্মদ সাফা নামের জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাটি ইরানে ‘সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি’ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং একটি চিঠি সংযুক্ত করে তার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, সাফা জাতিসংঘে প্যাট্রিওটিক ভিশন (পিভিএ)-এর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পিভিএ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শক মর্যাদা ভোগ করে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ-এর তথ্য অনুযায়ী, সাফা ২০১৩ সাল থেকে প্যাট্রিয়টিক ভিশন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
পোস্ট ও চিঠিতে সাফা বলেন, দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার দাবি, জাতিসংঘের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী লবির হয়ে কাজ করছেন।
পোস্টে তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘আমার মনে হয় মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না, কারণ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ।’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এটি তেহরানের ছবি। যারা যুদ্ধ চায়, তারা যেন বোঝে এটি কোনো জনবিরল মরুভূমি নয়। এখানে পরিবার, শিশু, পোষা প্রাণী এবং স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ আছে।’
সাফা উল্লেখ করেন, তেহরান প্রায় এক কোটি মানুষের শহর। তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনের মতো শহরে পারমাণবিক হামলার কথা কল্পনা করতে।
তিনি লেখেন, “এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ছাড়ছি। মানবতার বিরুদ্ধে এই অপরাধের অংশ না হতে এবং সম্ভাব্য ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকাতে আমি দায়িত্ব ত্যাগ করেছি।”
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলেও জানিয়েছেন মোহাম্মদ সাফা। তিনি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখনই পদক্ষেপ নিন। এই বার্তা ছড়িয়ে দিন। কেবল জনগণই এটি থামাতে পারে।’
সাফা জানান, তিনি ২০২৩ সালেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং গত তিন বছর ধরে ধৈর্য ধরে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে অনিচ্ছুক।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরাইলে হামলার পর ভিন্ন মত প্রকাশ করায় তিনি সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে পড়েন। ওই ঘটনার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো চলমান।
সাফা অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ তাকে পরিত্যাগ করেছে এবং তিনি ও তার পরিবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি জাতিসংঘ।
দৈএনকে/জে, আ