জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
বুধবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। কমিটির এক সদস্য জানান, বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণের বিষয়টি এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও একই তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগ গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত অবহিত করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই আলোচনার পরবর্তী পর্যায়েই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিম্ন গ্রেডে বেশি বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা
নতুন পে-স্কেলে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে একবারে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শুরুতেই বেতন না বাড়ালেও সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে পড়তে হয়। তাই তাদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিচার বিভাগের বেতন নিয়ে জটিলতা
নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এই জটিলতা নিরসন এবং বিচার বিভাগের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে সুপারিশ দিতে গত ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ে ওই কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত হতে পারে?
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারিত হারে বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে-কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত বেতন নয়। পে-স্কেলের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, ধাপ ও চূড়ান্ত বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নিশ্চিত হবে।
কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?
নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা এবং পরবর্তী সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি। তবে বেতন কত ধাপে বাড়বে এবং কোন গ্রেডে কী হারে কার্যকর হবে, তা জানতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।