বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের বিরুদ্ধে জাল বিল-ভাউচার ও দুর্নীতির অভিযোগ
  • নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

    নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
    ছবি: কোলাজ ইত্তেফাক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কসময় নাটকের মঞ্চে অভিনয় করেছেন, ছাত্রজীবনে যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতিতে। এরপর শিক্ষকতা, পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর পদ পেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির আসনে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার সামনে।

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হলেও তার মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও ছাত্ররাজনীতিতে শুরু

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক পরিবারের পরিবেশে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংস্কৃতি ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

    ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার।

    রাজনীতির পাশাপাশি নাট্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। নাটকে অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তার ছাত্রজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

    শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু

    শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হন তিনি।

    এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল।

    নির্বাচনী রাজনীতি ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব

    জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। তবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান।

    ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলের রাজনীতিতে তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

    বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব

    ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান মির্জা ফখরুল। দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। এরপর ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন।

    দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপথ নেননি তিনি।

    রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন

    দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পর এবার মির্জা ফখরুলের সামনে এসেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাওয়ার সম্ভাবনা। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করেছে বিএনপি।

    ছাত্ররাজনীতি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে পৌর প্রশাসন, সংসদ, মন্ত্রিসভা এবং দীর্ঘদিনের দলীয় নেতৃত্ব—তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা।

    ব্যক্তিজীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ মির্জা ফখরুলের দুই কন্যা রয়েছে। তার পরিবারেরও দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তার এক চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ সাবেক স্পিকার ও আইনমন্ত্রী ছিলেন। আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    বঙ্গভবনের পথে নতুন অধ্যায়

    নাট্যমঞ্চে অভিনয় দিয়ে যে যাত্রার একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেই পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি, নির্বাচনী রাজনীতি, মন্ত্রিত্ব এবং বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন দেশের সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সম্ভাবনার মুখে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই জানা যাবে, দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলা তাকে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনের দায়িত্বে নিয়ে যায় কি না।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন