অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে জালিয়াতি, খোয়া গেল ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে কৌশলে ১০০ টাকা ও তার চেয়ে ছোট মূল্যমানের নোট রেখে ভল্টের হিসাব সমন্বয় করার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। তবে বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশ্যে আসে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় অনিয়ম করতেন। এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ১০০ টাকা কিংবা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট রেখে বান্ডিল তৈরি করা হতো। পরে সেই হিসাব অনুযায়ী ভল্টের অর্থের হিসাব মিলিয়ে রাখা হতো।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এভাবে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করলে ১০ আগস্ট থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রথমে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাটহাজারীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাফরুল্লাহ তানভীরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভল্টের অর্থের হিসাবে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর ঘটনাটি তদন্তে নেওয়া হয়। কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম করা হয়েছে, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোপুরি অবস্থান শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভল্ট ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ গণনা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।