মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর স্মরণে আশুগঞ্জে মৈত্রীস্তম্ভ উদ্বোধন

মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত মৈত্রীস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। পরে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আশুগঞ্জের কামাউড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নির্মিত হয়েছে এই মৈত্রীস্তম্ভ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৈত্রীস্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ স্মৃতিস্তম্ভটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
মৈত্রীস্তম্ভ দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির দর্শনার্থীর জন্য টিকিটের মূল্য ২০ ও ৩০ টাকা রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ারসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর অবদান
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেন তারা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের অনেকে প্রাণ হারান। উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর ১ হাজার ৬৬১ জন সদস্য নিহত হন।
তাদের আত্মত্যাগ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানকে স্মরণ করতেই আশুগঞ্জে নির্মাণ করা হয়েছে মৈত্রীস্তম্ভ। স্মৃতিস্তম্ভটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাংলাদেশ-ভারতের মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।