বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

আর্কটিকে ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, যুব উৎসবের প্রতি সংহতি

আর্কটিকে ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, যুব উৎসবের প্রতি সংহতি
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটমের সপ্তম বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযান ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক যুব উৎসব–২০২৬-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যতিক্রমী এক বৈজ্ঞানিক ও সৃজনশীল উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।

‘৫০ ইয়ার্স অব ভিক্টরি’ নামের পারমাণবিকচালিত আইসব্রেকারে আয়োজিত শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে রাশিয়া ও বিশ্বের আরও ২২টি দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা আর্কটিক অঞ্চলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্ট্র্যাটোস্ফেরিক প্ল্যাটফর্ম বা প্রোবের ডানায় নিজেদের শিল্পকর্ম ও শুভেচ্ছা বার্তা আঁকে। পরে সেই প্রোবটি আকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় আন্তর্জাতিক যুব ঐক্য, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে।

বিশ্ব যুব উৎসব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিমিত্রি ইভানভ বলেন, কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক যুবসমাজের তরুণ নেতাদের একত্র করতে বিশ্ব যুব উৎসব ও রোসাটম যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে। ২০২৪ সালে বিশ্ব যুব উৎসবের অংশগ্রহণকারীরাও ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ অভিযানে যোগ দিয়ে রাশিয়া ও বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তর মেরু সফর করেছিলেন। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় প্রোব

ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে প্রোবটি ১৫ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় উঠে যায়। এরপর প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করে।

এই স্ট্র্যাটোস্ফেরিক প্ল্যাটফর্মটি যৌথভাবে তৈরি করেছে মুরমানস্ক আর্কটিক ইউনিভার্সিটি, স্ট্র্যাটোনাভটিকা অ্যারোস্পেস ল্যাবরেটরি, রুভিডিএস কোম্পানি এবং এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্ডার্স ফাউন্ডেশন। প্রকল্পটিতে হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও রোসাটমও সহযোগিতা করেছে।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেখা গেছে, এ ধরনের উচ্চ-উচ্চতার প্ল্যাটফর্ম আর্কটিক অঞ্চলের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এর মধ্যে নর্দার্ন সি রুট পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত নজরদারি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের মতো কার্যক্রম রয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্ল্যাটফর্মটির ডানায় নিজেদের শুভেচ্ছা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা লিখে দেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব–২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের প্রতি তারা বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা পাঠান।

রাশিয়ার শিক্ষার্থী আন্না আজারোভা বলেন, শুধু প্রোব উৎক্ষেপণ দেখা নয়, বরং সেটি প্রস্তুত করার কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল। এ ধরনের উদ্যোগ তাকে বিজ্ঞান নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করেছে।

চীনের শিক্ষার্থী সুম ইয়াও লাও বলেন, উচ্চ-উচ্চতার বেলুন উৎক্ষেপণের অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। উৎক্ষেপণের আগে সবাই মিলে প্রোবটি স্থির করে রাখার মুহূর্তটি তার কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মুরমানস্ক থেকে উত্তর মেরু

‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ অভিযানটি ৪ আগস্ট মুরমানস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে। এর রুট ছিল মুরমানস্ক–উত্তর মেরু–ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড–মুরমানস্ক।

এবারের অভিযানটি রাশিয়ার ‘জনগণের ঐক্যের বছর’-কে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছে। এতে রাশিয়ার স্কুলশিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাছাইপর্বের বিজয়ী, রোসাটমের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল আন্দোলনের সদস্য, ‘বিগ চেঞ্জ’ প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার পুরস্কারপ্রাপ্তরা অংশ নিয়েছেন।

অভিযানে মস্কোর এমন এক স্কুলছাত্রীও রয়েছেন, যিনি রাশিয়ার ইউনিফায়েড স্টেট পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০০ নম্বর পেয়েছেন।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও পারমাণবিক শিল্পের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি লেখক সের্গেই লুকিয়ানেঙ্কো এবং বাশকোর্তোস্তানের ব্যান্ড এওয়াই ইয়োলা অংশ নিয়েছে কর্মসূচিতে।

আয়োজকদের মতে, প্রোবের ডানায় শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও শুভেচ্ছাবার্তা প্রমাণ করে যে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্ব কোনো সীমান্ত মানে না। আর্কটিক অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মধ্যে সহযোগিতার এই বার্তাই উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক যুব উৎসব–২০২৬

২০২৪ সালের ১ থেকে ৭ মার্চ রাশিয়ার সিরিয়াসে বিশ্ব যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯০টি দেশের প্রায় ২০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ব যুব উৎসবের ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক যুব সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দেশটিতে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে নিজনি নভগোরোদে বিশ্ব যুব উৎসবের অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১২০টি দেশের প্রায় ২ হাজার তরুণ অংশ নেন।

২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আর ২০ হাজার অংশগ্রহণকারী নিয়ে পরবর্তী বিশ্ব যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ২০৩০ সালে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন