রক্ষণভাগের ভুলে গোল হজম, আক্রমণভাগের নৈপুণ্যে জয়ী আর্জেন্টিনা

প্রথমবারের মতো আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান বিশাল হলেও ম্যাচে প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচে তারা ২-১ গোলে হারায় মৌরিতানিয়াকে। তবে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর শেষ মুহূর্তে গোল হজম করায় কিছুটা হতাশা দেখা যায় সমর্থকদের মধ্যে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন এনজো ফারনান্দেজ ও নিকো পাজ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে দর্শকদের করতালিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। মাঠে নেমে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত উপহার দিলেও এদিন গোলের দেখা পাননি মেসি।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও লড়াই চালিয়ে যায় মৌরিতানিয়া। ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে তারা যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি গোল করে ব্যবধান কমায়। গোলটি করেন জর্ডান লেফোর্ট। এতে শেষ মুহূর্তে কিছুটা চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রাখলেও আর্জেন্টিনা গোলের উদ্দেশে নেয় ৭টি শট, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মৌরিতানিয়া নেয় ১১টি শট, যার ৪টিই ছিল অন টার্গেটে।
ফলে জয় পেলেও পারফরম্যান্সে পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ভাবাচ্ছে সমর্থকদের।
এই ম্যাচে মূলত দল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করে দেখেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেই ম্যাচে জয় এলেও সন্তুষ্টির জায়গা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১ এপ্রিল ভোরে নিজেদের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে এই জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন কোচ ও সমর্থকরা।