ভয়াবহ ভূমিকম্পেও অটুট মাতৃত্ব, জীবিত উদ্ধার মা ও শিশু

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও ১৮ দিনের নবজাতক সন্তানকে বুকে আগলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ভেনেজুয়েলার এক মা। দীর্ঘ সময় উদ্ধারকাজ চলার পর মা ও শিশুকে জীবিত বের করে আনার ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডায়ানা পাতিনো জানান, ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারে আটকে থাকার পুরো সময়টাতে তাঁর একমাত্র শক্তির উৎস ছিল কোলে থাকা ছেলে হুয়ান দাভিদ। সন্তানের শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি বারবার তার নাকের কাছে হাত রাখছিলেন।
ডায়ানার ভাষায়, সন্তান জীবিত আছে—এই বিশ্বাসই তাকে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় তিনি উত্তর উপকূলীয় এলাকার নিজ বাসায় ছিলেন। প্রথমে কম্পনকে স্বাভাবিক মনে হলেও মুহূর্তের মধ্যে ভবন ধসে পড়ে। তিনি সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কয়েক তলা নিচে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়েন।
তিনি জানান, নিচে পড়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন আসবাবপত্রের সঙ্গে ধাক্কা খেলেও কোনোভাবে শিশুকে হাতছাড়া করেননি। তবে তাঁর একটি পা কংক্রিটের নিচে আটকে যায় এবং নড়াচড়া করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
শুরুর দিকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও পরে শক্তি সঞ্চয় করে অপেক্ষা করতে থাকেন। কাছাকাছি মানুষের শব্দ শুনলেই তিনি ডাক দিতেন।
অন্ধকারের মধ্যে নিজের শরীরের নিচে একটি বাইবেল অনুভব করা এবং দূরে সামান্য আলো দেখতে পাওয়ার পর তাঁর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।
অবশেষে বাইরে থেকে ভাইয়ের কণ্ঠ শুনে তিনি জোরে চিৎকার করেন। ভাই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর উদ্ধারকারীরা সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর ডায়ানার দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও নবজাতক প্রায় অক্ষত ছিল বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ডায়ানার স্বামী গেরসন পাটিনো বলেন, ভবন ধসে পড়ার পর তিনি ধরে নিয়েছিলেন স্ত্রী ও সন্তান আর বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের জীবিত ফিরে পাওয়া তাঁর কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো।
তিনি বলেন, ঘরবাড়ি ও প্রায় সব সম্পদ হারিয়েছেন, তবুও পরিবারকে জীবিত ফিরে পাওয়াই সবচেয়ে বড় পাওয়া। নতুন করে জীবন শুরু করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।
সূত্র: বিবিসি