শবেকদরের গুরুত্ব: কিয়ামুল লাইল ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

রমজান মাসের রাতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত হলো শবেকদর বা কদরের রাত। এই রাত রমজানের সৌন্দর্য ও মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। কোরআনুল কারিমে এটি বলা হয়েছে লাইলাতুল কদর, যেদিন পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
আল্লাহ বলেন:
"নিঃসন্দেহে কদরের রাতে আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি।" (সুরা কদর, আয়াত: ১)
শবেকদর কোন রাত?
হাদিসে বলা হয়েছে, এই রাত রমজানের শেষ দশকের রাতসমূহে অণ্বেষণ করতে হবে। বিশেষত বেজোড় রাতগুলো যেমন ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ইত্যাদি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, বৃদ্ধ বা অসুস্থদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ১৭ রমজানের রাতেও শবেকদরের সুযোগ রয়েছে।
শবেকদরের মর্যাদা
শবেকদরের মর্যাদা বোঝার জন্যই কোরআনে স্বতন্ত্রভাবে সুরা কদর অবতীর্ণ হয়েছে। এ রাতে হাজার মাসের চেয়েও বেশি নেকি অর্জন হয়। ফেরেশতা ও রুহুল কুদুস পৃথিবীতে অবতরণ করে এবং রাতের শান্তি ফজর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
শবেকদরের আমল ও বিশেষ দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ রাত জেগে ইবাদত করতেন। এ রাতে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তাওবা ও ইস্তিগফার করা অত্যন্ত ফলদায়ক। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি শবেকদরের রাতে ঈমান ও নেকি উদ্দেশ্যে ইবাদত করবে, তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
শবেকদরে পড়ার জন্য বিশেষ দোয়া হলো:
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।"
অর্থাৎ: "হে আল্লাহ্! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু। ক্ষমা করাকে ভালোবাসো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।"
বিশেষ দোয়ার গুরুত্ব
এ দোয়ায় ব্যবহৃত ‘আফওয়া’ শব্দের অর্থ হলো সম্পূর্ণ ক্ষমা, যা আমাদের গুনাহগুলো সম্পূর্ণভাবে মুছে দেয়। বিচার দিবসেও এই গুনাহের জন্য প্রশ্ন করা হবে না। এটি আল্লাহর সর্বোচ্চ দয়া ও রহমতের প্রতীক।
শবেকদরের রাত ও দোয়া পালন করে মানুষ গুনাহমুক্তি ও হাজার মাসের সমপরিমাণ নেকি অর্জন করতে পারে।