ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইসরাইল প্রীতি নিয়ে ক্ষোভ ও বিতর্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয় বছর পর আবারও ইসরাইল সফরে গেলেন। এই সফর নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নয়াদিল্লির ঔপনিবেশিক পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। দেশের বিভিন্ন সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও প্রধানমন্ত্রীর এই ইসরাইল-প্রীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানোয় ইসরাইল থেকে যখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিশ্ব, ঠিক তখনই দেশটিতে সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরাইল পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাল গালিচা সংবর্ধনা আর উষ্ণ আলিঙ্গনে তাকে বরণ করে নেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিমানবন্দরে মোদিকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। পরে সেখান থেকে দুই নেতা যান জেরুজালেমে।
দুই দিনের এই সফরের লক্ষ্য কৌশলগত অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা। তবে, সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সম্প্রসারণ নীতির নিন্দা জানিয়ে শতাধিক দেশের সঙ্গে একটি বিবৃতিতেও সই করেছে।
সবশেষ ২০১৭ সালে দেশটিতে সফর করেন মোদি। আবারও তার সফর জন্ম দিয়েছে নানা সমালোচনার। প্রধানমন্ত্রীর এমন ইসরাইল প্রীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতের নাগরিক সমাজের একাংশ, বিভিন্ন সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
ইসরাইলে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা চলমান রয়েছে।
এছাড়া গত বছর দেশ দুটি নতুন দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, এফটিএ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইসরাইল চায় ভারতীয় অবকাঠামো কোম্পানিগুলো তাদের দেশে বিনিয়োগ করুক। একই সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তি হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া মোদি সরকারের সময় থেকে ভারত ইসরাইলি অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২৪ সালে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সময় ভারতীয় কোম্পানিগুলোর অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মোদির বিজেপি সরকার ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী পরিচয়কে জোরালো করে ইসরাইলের ইহুদি রাষ্ট্র ধারণার সঙ্গে আদর্শগত মিল খুঁজে পায়।
দৈএনকে/জে, আ