দান-অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ নাম

যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের মধ্যে দান-অঙ্গনে কিছু ব্যক্তি নজরকাড়া উদার, তবে এমন ধনী দাতারাও রয়েছেন যাদের দানের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দানের মোট অঙ্কের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ দাতা হলো:
ওয়ারেন বাফেট
- জীবদ্দশায় দান: ৬৮.৩ বিলিয়ন ডলার
- দান ক্ষেত্র: স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য নিরসন
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ৩২%
- মোট সম্পদ: ১৪,৭২০ কোটি ডলার
ওয়ারেন বাফেট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উদার দাতা। ২০২৫ সালে নিয়মিত শেয়ার দান ও পরিবারের দাতব্য সংস্থাগুলোকে মোট ৭০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস
- জীবদ্দশায় দান: ৫২.৬ বিলিয়ন ডলার
- দান ক্ষেত্র: স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য নিরসন
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ২৮%
- মোট সম্পদ: ১৩,৮১০ কোটি ডলার
দম্পতির যৌথ দান মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হয়েছে। ২০২৪ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ১,১৩০ কোটি ডলার দান করেছেন।
ম্যাকেঞ্জি স্কট
- জীবদ্দশায় দান: ২৬.৪ বিলিয়ন ডলার
- দান ক্ষেত্র: শিক্ষা, অর্থনৈতিক সমতা
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ৪৬%
- মোট সম্পদ: ২,৮৫০ কোটি ডলার
ম্যাকেঞ্জি স্কট ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিশাল দান দিয়েছেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তত ৭৬ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন।
মাইকেল ব্লুমবার্গ
- জীবদ্দশায় দান: ২৫.৪ বিলিয়ন ডলার
- দান ক্ষেত্র: জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ১৯%
- মোট সম্পদ: ১০,৯৪০ কোটি ডলার
জাতিসংঘের জলবায়ুদূত মাইকেল ব্লুমবার্গ শিক্ষাক্ষেত্র ও পরিবেশ রক্ষায় বিপুল দান দিয়েছেন। ২০২৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছেন।
জর্জ সোরোস
- জীবদ্দশায় দান: ২,৪০০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: গণতন্ত্র, মানবাধিকার
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ৭৬%
- মোট সম্পদ: ৭৪০ কোটি ডলার
জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে। ২০২৪ সালে গুরুত্বপূর্ণ অনুদানগুলো দেওয়া হয়েছে বারাক ওবামা ফাউন্ডেশন, সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি এবং ওয়েস্ট আফ্রিকা ডেমোক্রেসি রেডিওকে।
ম্যারিলিন সাইমনস ও পরিবার
- জীবদ্দশায় দান: ১,০৩০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: বিজ্ঞান, গণিত
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ২৪%
- মোট সম্পদ: ৩,২৫০ কোটি ডলার
ম্যারিলিন সাইমনস নতুন গবেষণা তহবিল গঠন ও পরিবেশগত প্রভাব ও স্নায়ুবিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে বিনিয়োগ করছেন।
স্টিভ বলমার ও কনি বলমার
- জীবদ্দশায় দান: ৬৫০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: অর্থনৈতিক গতিশীলতা
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ৪%
- মোট সম্পদ: ১৪,১০০ কোটি ডলার
বালমার গ্রুপ প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ও দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারের জন্য বরাবর অনুদান দেয়।
মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান
- জীবদ্দশায় দান: ৬১০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) জীববিজ্ঞান
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ৩%
- মোট সম্পদ: ২১,৩০০ কোটি ডলার
জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞানে বিনিয়োগ করছেন। ২০২৫ সালে ৪০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছেন।
সের্গেই ব্রিন
- জীবদ্দশায় দান: ৫১০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: পারকিনসনস রোগ, জলবায়ু পরিবর্তন
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ২%
- মোট সম্পদ: ২৩,৮২০ কোটি ডলার
সের্গেই ব্রিন পারকিনসনস রোগের গবেষণায় ২২০ কোটি ডলার দান করেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত অলাভজনক সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিয়েছেন।
জেফ বেজোস ও লরেন সানচেজ বেজোস
- জীবদ্দশায় দান: ৪৭০ কোটি ডলার
- দান ক্ষেত্র: জলবায়ু পরিবর্তন, গৃহহীনতা
- নিজ সম্পদের অনুপাতে দান: ২%
- মোট সম্পদ: ২৫,০০০ কোটি ডলার।
বেজোস আর্থ ফান্ড ও ডে ১ ফ্যামিলিস ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু ও গৃহহীনতা মোকাবিলায় বিপুল দান করেছেন।
যদিও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ও ল্যারি পেজের মিলিত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, দানের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাঁরা এই তালিকায় নেই।
দৈএনকে/জে, আ