বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Natun Kagoj
নিলাম হওয়া কনটেইনার উধাও

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার এক উদ্বেগজনক চিত্র সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া একটি কনটেইনার, যার মধ্যে ছিল ২৫ হাজার ৬২৬ কেজি ইনডিগো রঙের ফেব্রিক্স, পুরোপুরি উধাও হয়েছে। ক্রেতা সমস্ত শুল্ক ও অর্থ পরিশোধ করার পরও পণ্যটি বুঝে নিতে পারেননি।

কাস্টমস আইন-১৯৬৯-এর ৮২ ধারায় নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যরক্ষা এবং ডেলিভারির দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের। একইভাবে কাস্টমস আইন-২০২৩-এর ৮ এবং ১৩০ ধারায় বন্দর ও ওয়্যারহাউজ রক্ষককে দায়িত্বশীল করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় বিক্রি হওয়া পণ্য বন্দরই সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এটি কোনো একক ঘটনার সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও প্রায় দেড় কোটি টাকার দুটি কাপড়ভর্তি কনটেইনার উধাও হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেও পণ্য বুঝে পাননি। এতে শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়নি, সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে বন্দর থেকে অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। কিন্তু দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া এখনও স্থগিত। ক্রেতারা সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত এবং নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বন্দর কর্তৃপক্ষের মূল দায়িত্ব। যদি এই দায়িত্বে গাফিলতি ঘটে, তা শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করে। এই ধরনের ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত, কঠোর এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন