ট্রাম্পের আমলে হলিউডের পরিবেশ বদলে গেছে: ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে বিদেশে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে হলিউডের পরিবেশ নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সিনেমা নির্মাণে বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ইউরোপে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট বলেন,
“ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতাই যেন ভেঙে পড়ছে। সবকিছু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এই পরিবেশে সৃজনশীলভাবে কাজ করা খুব কঠিন হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও জানান, ইউরোপে সিনেমা নির্মাণ করে সেগুলো আবার আমেরিকান দর্শকদের কাছেই পৌঁছে দিতে চান। তার মতে, ভৌগোলিক সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করলে গল্প বলার স্বাধীনতা আরও বাড়ে।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও বক্তব্যের সমালোচনা করতে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বিভাজন এবং শিল্পের ওপর প্রভাব নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
‘টুয়াইলাইট’ সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট বর্তমানে স্বাধীন ও শিল্পঘন সিনেমার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তার এই সিদ্ধান্ত হলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহাওয়া শুধু রাজনীতিবিদদের মধ্যেই নয়, সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতেও গভীর প্রভাব ফেলছে। ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
ক্রিস্টেন বলেন, আমি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারব না। সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আমি আমেরিকান দর্শকদের জন্য সিনেমা বানানো ছাড়তে চাই না। ইউরোপে বানিয়ে সেগুলো আবার আমেরিকানদের কাছেই পৌঁছে দিতে চাই।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু ও লেখক লিডিয়া ইউকনাভিচের ২০১১ সালের আত্মজীবনীমূলক বই অবলম্বনে নির্মিত। সিনেমাটিতে শৈশবের নির্যাতন ও আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় উঠে এসেছে।
ক্রিস্টেন জানান, এই সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে বানানো প্রায় অসম্ভব ছিল। তাই শুটিং করা হয়েছে লাটভিয়ায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন। তিনি এসব সিনেমাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেন। এই প্রস্তাবকে “ভয়ংকর” বলে আখ্যা দিয়েছেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তাঁর মতে, এতে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিল্পীরা বিদেশে কাজ করতে বাধ্য হবেন।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের বিরোধ নতুন নয়। ২০১২ সালে রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় পরিচালক রুপার্ট স্যান্ডার্সের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) একের পর এক আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছিলেন তিনি।
পরে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে ক্রিস্টেন একে পাগলামি বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, তখন তিনি শুধু একজন রিয়েলিটি শো তারকা ছিলেন। এখন পেছনে তাকিয়ে ভাবলে সবকিছুই অবিশ্বাস্য লাগে।