দলীয়করণ থেকে পেশাদারত্বে ফেরার চ্যালেঞ্জ: পুলিশ সংস্কারের সময় এখনই

পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার একটি কঠিন বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল এবং সেই সময় নানা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার এমন স্বীকারোক্তি শুধু সাহসী নয়, বরং ভবিষ্যৎ সংস্কারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাবিন্দু।
জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনাগুলো, আন্দোলনকারীদের প্রাণহানি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা সহজে মোছার নয়। আইজিপির বক্তব্যে স্পষ্ট—কিছু লোভী, দলকানা সদস্য ও নেতৃত্বের কারণেই পুরো বাহিনীকে মূল্য দিতে হয়েছে। এই দায়ভার থেকে মুক্ত হয়ে পুলিশকে আবার জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টাই এখনকার প্রধান লক্ষ্য।
তবে স্বীকারোক্তি যথেষ্ট নয়। পুলিশ সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো ছাড়া ‘স্বমহিমায় পুলিশ’ ফিরে আসা সম্ভব নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শতভাগ সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা মেনেও আইজিপির ঘোষিত লক্ষ্য, “একজন মানুষও যেন না মারা যায়”, একটি নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বহুবাহিনী সমন্বয়ের যে পরিকল্পনার কথা আইজিপি জানিয়েছেন, তা আশাব্যঞ্জক। তবে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা কেবল বাহিনীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে নিরপেক্ষতা ও পেশাদার আচরণের ওপর। জনগণের বিশ্বাস অর্জনই হবে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আজ প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ—যেখানে পুলিশ আর কোনো দলের নয়, বরং সংবিধান ও জনগণের বাহিনী হিসেবে কাজ করবে। আইজিপির বক্তব্য সেই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেয়। এখন দেখার বিষয়, এই সদিচ্ছা কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং কতটা বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেয়।
রাষ্ট্র, সমাজ এবং পুলিশের স্বার্থেই এই সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না।