মঙ্গল ও বৃহস্পতি: নতুন ছবি, পুরোনো নামের গল্প

পৃথিবীর ভাই-বোনদের ছবি আজ দেখানো হলো। আশা করি সহজেই বোঝা যাচ্ছে, ছবিগুলো মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের। উভয়ই গত এক মাসের মধ্যে তোলা। এখানে গ্রহগুলোর জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বদলে তাদের নাম নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক। আপনাদের জন্য কেমন মনে হয় জানি না, তবে আমার মনে পড়ে না ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে গ্রহগুলোর বাংলা নামের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। যদি সত্যিই না থাকে, তবে অবশ্যই এটি থাকা উচিত।
বৃহস্পতি
রোমানরা বৃহস্পতিকে নাম দিয়েছে দেবতাদের রাজা জুপিটারের নামে। স্বভাবতই এ নাম উপযুক্ত যেহেতু গ্রহদের মাঝে জুপিটার সবচেয়ে বড়। যদিও আমি জানি না, রোমানরা কিভাবে জানলো জুপিটার গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড়! সে আমলে তো টেলিস্কোপ ছিল না, আর উজ্জ্বলতার দিকে দিয়ে শুক্র গ্রহ বেশি উজ্জ্বল। আদি ভারতীয়রাও জানতো যে গ্রহদের মাঝে বৃহস্পতির গুরত্ব অনেক। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভারতবর্ষের মানুষরা এ গ্রহের নাম ব্রহ্মা না দিয়ে বরং একজন জ্ঞানী গুণী দেবতার নামে নাম দিয়েছে। বৃহস্পতি ছিলেন বেদে উল্লেখ করা একজন দেবতা/ঋষি যিনি অন্য দেবতাদের জ্ঞান এবং পরামর্শ দিতেন। আরবিতে বৃহস্পতির নাম আল-মুস্তারি। মুস্তারি মানে ক্রেতা বা মালিক। এখানেও সম্ভবত বৃহস্পতি গুরত্ব বুঝে তাকে মালিক বলা হয়েছে।
মঙ্গল
অবাক ভাবে মঙ্গল গ্রহের নামের উৎস রোমানদের এবং ভারতীয়দের ক্ষেত্রে একই। আপাত ভাবে মনে হচ্ছে দুই সভ্যতাই জানতো মঙ্গল গ্রহ লাল রঙের। লাল রঙকে তারা সম্পৃক্ত করেছে রক্ত এবং যুদ্ধের সাথে এবং সে কারণে স্ব-স্ব যুদ্ধের দেবতার নামে মঙ্গল গ্রহের নামকরণ করেছে। রোমানদের যুদ্ধের দেবতা হচ্ছে মার্স আর হিন্দুদের যুদ্ধ এবং অকৃতদারের দেবতা মঙ্গল। আমার মনে হয় না এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার। আমার বিশ্বাস, আর্যরা যুদ্ধের সাথে গ্রহের নামকরণের ধারণা ভারতবর্ষে এনেছে। একই ভাবে মঙ্গল গ্রহের আরবি নামের সাথেও লাল রঙের এবং যুদ্ধের সম্পর্ক আছে। আরবিতে মঙ্গলের নাম আল-মারিখ । ইসলাম ধর্ম আসার আগে ওই অঞ্চলে মারিখ নামে একজন অগ্নিশর্মা, যুদ্ধাংদেহী দেবতার নাম প্রচলিত ছিল।
বলাই বাহুল্য, বৃহস্পতি এবং মঙ্গল গ্রহ থেকেই সপ্তাহের দুটো বারের নামকরণ।