মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

চাঁদের পৃষ্ঠের ইতিহাস ও ক্রেটার তুলে ধরল নতুন মানচিত্র

চাঁদের পৃষ্ঠের ইতিহাস ও ক্রেটার তুলে ধরল নতুন মানচিত্র
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

চাঁদের পৃষ্ঠের বৈচিত্র্যময় দৃশ্যমান দাগ ও গহ্বর নিয়ে এবার একটি বিশাল মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। নভেম্বরে দেখা সুপারমুনের সময়ে ১০০০-এর বেশি ছবি তোলার মাধ্যমে এই মাল্টি-প্যানেল মোজাইক চাঁদের বৈজ্ঞানিক চিত্রায়নকে আরও স্পষ্ট করেছে।

চাঁদের পৃষ্ঠে দেখা যায় বড় বড় কালচে ছোপ এবং ছোট ছোট গর্তের মতো দাগ। বিজ্ঞানীদের মতে, এগুলো চাঁদের জ্বালাময়ী অতীতের চিহ্ন। প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী ও থিয়া গ্রহের সংঘর্ষের ফলে চাঁদ তৈরি হয়। তখন গলিত লাভা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে কালচে ছোপ আকার নেয়, যা আজও দেখা যায়।

চাঁদ ও পৃথিবী উভয়ের উপর তখন প্রচুর উল্কা ও গ্রহাণুর আঘাত পড়েছিল, যা গোলাকৃতি ক্রেটার তৈরি করেছে। যেহেতু চাঁদে ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ বা বায়ুমণ্ডল নেই, তাই কোটি কোটি বছরের ক্ষতচিহ্ন আজও অক্ষত রয়ে গেছে।

চাঁদের নামকরণও বিশেষ। বড় কালচে অঞ্চলগুলোকে প্রাচীন মানুষ “মারে” (Mare) বা “সমুদ্র” বলত। অ্যাপোলো ১১ মিশনের অবতরণ স্থান হলো মারে ট্রাঙ্কুইলিটাটিস বা Sea of Tranquility। এছাড়া টিকো ক্রেটার, কপারনিকাস ক্রেটার ইত্যাদি নাম বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদের নামে রাখা হয়েছে।

চাঁদের এই বিশাল মানচিত্র তৈরি করতে ৯ ভাগে ভাগ করে ছবি তোলা হয়েছে এবং রঙের বুস্টিং করে খনিজ উপাদানগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। লালচে অংশে আছে আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, আর নীলচে অংশে টাইটেনিয়াম অক্সাইড। এই মানচিত্রটি মূলত ব্যক্তিগত কাজে তৈরি হলেও এখন পোস্টার হিসেবে পাওয়া যাবে, ১২ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন