শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৫ ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি
  • রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে একযোগে পাশে দাঁড়াল ১১ দেশ

    রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে একযোগে পাশে দাঁড়াল ১১ দেশ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আজ (২৫ আগস্ট) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এ অনুপ্রবেশে লাখো রোহিঙ্গা আশ্রয় নেন কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে।

    গত আট বছরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংকটের পাশাপাশি তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখনও অনিশ্চিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ—অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড—এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এই আট বছরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, এবং এখনও নতুনভাবে আসছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা রোহিঙ্গাদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতাকে সাধুবাদ জানাই, যারা দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বাস্তবতা ও বাস্তুচ্যুতি সহ্য করে চলেছেন। বিশেষ করে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে, তবুও রোহিঙ্গারা সেখানে তাদের হারানো বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করছে। 

    বিবৃতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা উল্লেখ করে বলা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণ তাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং নিরাপত্তা প্রদান করছে, এবং জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করছে। আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, এমনটি উল্লেখ করেছে ১১টি দেশ।
     
    প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদিও রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে চায়, বর্তমানে মিয়ানমারে এমন পরিস্থিতি নেই যাতে তারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, সম্মানের সাথে এবং স্থায়ীভাবে ফিরে যেতে পারেন। ১১টি দেশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং প্রত্যাবাসনের জন্য শান্তিপূর্ণ এবং স্থিতিশীল মিয়ানমারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সশস্ত্র সহিংসতা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহিত হতে পারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দেশগুলো আহ্বান জানিয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশগুলো বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে আরও স্থায়ী সমাধানের দিকে কাজ করবে, এবং কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সমর্থন দিবে যারা উদারভাবে শরণার্থীদের আতিথেয়তা জানাচ্ছে।

    ফ্রান্স দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেল এবং ফেসবুক পেইজে এই যৌথ বিবৃতি শেয়ার করে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।

    এছাড়াও, এই ১১ দেশ রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে, যাতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে এবং তাদের বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় নিরাপদ, সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত গঠনের জন্য তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন