আমিরাত হামলা ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযোগ করেছে, ফুজাইরাহ এলাকার একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করেছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ধরনের হামলার বিষয়ে ইরানের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না এবং অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে এক ইরানি সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেন, ফুজাইরাহর ওই ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষায়, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে ওই তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।
ওই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও “শক্তি প্রয়োগের আচরণ” বন্ধ করার আহ্বান জানান, কারণ এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার মোতায়েনের পর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী সাতটি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। তবে এক মার্কিন অ্যাডমিরাল ছয়টি নৌযান ধ্বংসের কথা জানান।
ইরান এসব দাবিকে নাকচ করে বলেছে, মার্কিন বাহিনী বরং বেসামরিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
দৈএনকে/জে, আ