ঈদুল আজহার কোরবানি ও পশুর বয়সসীমা

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এ ঈদের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি। হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি মুসলমানদের বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে কোরবানির সময় উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। তিনি আরও জানান, এই ফজিলত শুধু আহলে বায়তের জন্য নয়, বরং সকল মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য (মুসনাদে বাজযার)।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো” (সুরা কাওসার: ২)। এ ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন এবং নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা (আলমুহিতুল বুরহানি, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া)।
এদিকে কোরবানির পশুর বয়সসীমা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী জানান, কোরবানির জন্য উটের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর, গরু ও মহিষের ২ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে।
তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কম বয়সী হয় কিন্তু দেখতে পূর্ণবয়স্কের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তবে তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ—শর্ত হলো এর বয়স কমপক্ষে ৬ মাস হতে হবে। তবে ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছরের কম বয়স হলে কোরবানি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জানান (ফাতাওয়া কাজীখান, বাদায়েউস সানায়ে)।
এছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করেন না, তাদের বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যার কোরবানির সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরাক হাকেম)।
দৈএনকে/জে, আ