পরকীয়ার ভয়ানক পরিণাম: কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?

ইসলামে পরকীয়া বা বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুতর এবং ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারের কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন, কারণ এটি একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পরকীয়া বা ব্যভিচারের শাস্তি অপরাধীর বৈবাহিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
ইসলামে এর শাস্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বিবাহিত নারী ও পুরুষের শাস্তি
যদি কোনো বিবাহিত নারী বা পুরুষ পরকীয়ায় লিপ্ত হয় এবং তা আইনিভাবে (চারজন প্রত্যক্ষদর্শী বা স্বীকারোক্তির মাধ্যমে) প্রমাণিত হয়, তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাদের শাস্তি হলো রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড। এটি ব্যভিচারের সর্বোচ্চ শাস্তি, যা সমাজের নৈতিকতা রক্ষা এবং পরিবারের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য নির্ধারিত।
২. অবিবাহিত নারী ও পুরুষের শাস্তি
যদি কোনো অবিবাহিত নারী বা পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে পবিত্র কুরআনের সূরা নূর-এর বিধান অনুযায়ী তাদের শাস্তি হলো ১০০টি দোররা বা বেত্রাঘাত।
"ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো..." (সূরা নূর: ২)
৩. পরকালের শাস্তি
দুনিয়ার শাস্তির পাশাপাশি পরকালেও ব্যভিচারীদের জন্য কঠিন আযাবের কথা বলা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, ব্যভিচারীরা জাহান্নামে এমন এক চুল্লিতে থাকবে যার উপরিভাগ সংকীর্ণ এবং নিচের দিক প্রশস্ত, যেখানে তাদের আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ করা হবে।
শাস্তি কার্যকরের শর্তাবলি
ইসলামে এই কঠিন শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়:
-
চারজন সাক্ষী: অপরাধ সংগঠনের সময় চারজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সরাসরি তা দেখেছেন বলে সাক্ষ্য দিতে হবে।
-
স্বীকারোক্তি: অপরাধী যদি নিজে বিচারকের কাছে গিয়ে চারবার স্পষ্টভাবে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
-
রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থা: এই শাস্তিগুলো সাধারণ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে কার্যকর করতে পারে না। শুধুমাত্র একটি ইসলামি রাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করা সম্ভব।
ক্ষমা ও তওবার সুযোগ
আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু। যদি কেউ বিচারকের কাছে ধরা পড়ার আগে আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং সেই পাপ থেকে সম্পূর্ণ ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন। ইসলাম মানুষকে পাপে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে পর্দা পালন, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং দ্রুত বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপনের উৎসাহ দেয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রচলিত আইনে এই শাস্তিগুলো সরাসরি কার্যকর নেই। তবে মুসলিম হিসেবে পরকীয়া থেকে বেঁচে থাকা ঈমানি দায়িত্ব, কারণ এটি কেবল পরিবারকেই ধ্বংস করে না, বরং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়।
দৈএনকে/জে, আ