নুসরাতকে সহযোদ্ধা বলে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা মনিরার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন তার সহকর্মী নুসরাতকে “সহযোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে তার পক্ষে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুর ১টা ১১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে মনিরা শারমিন লেখেন, নুসরাত তার সহযোদ্ধা। ক্যাম্পাসে কঠিন সময়ে সে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং জুলাইয়ের আন্দোলনকালেও রাজপথে সক্রিয় ছিল। তার প্রতি তিনি শুভকামনা জানান।
তিনি আরও লেখেন, আজ উচ্চ আদালতে রিটের শুনানি দুপুর ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে যাওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া। তার মতে, এমপি কে হচ্ছেন তা নয়, বরং এই আইনি লড়াই সফল হলে ভবিষ্যতে শিক্ষিত তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথ আরও সহজ হবে।
মনিরা শারমিন বলেন, তিনি রাজনীতিবিদ হিসেবে অসঙ্গতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চান এবং সেটিই তার মূল দায়িত্ব। তার এই লড়াই যদি একজন তরুণকেও অনুপ্রাণিত করে, সেটিই তার সার্থকতা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যারিয়ার ত্যাগ করে শিক্ষিত তরুণরা যেন দেশ গঠনে এগিয়ে আসে এবং রাজনীতি যেন চাঁদাবাজি বা ধান্দাবাজির জায়গা না হয়ে ত্যাগের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন আজ হাইকোর্টে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ শুনানি হতে পারে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শুনানিতে মনিরা শারমিনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আহসানুল করিম ও মুহাম্মদ হোসেন লিপু অংশ নিতে পারেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে আপিল করেও তিনি কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল পান এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
মনিরা শারমিনের হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। সে অনুযায়ী এখনো তিন বছর পূর্ণ হয়নি বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।