মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভয়াবহ ভূমিকম্পেও অটুট মাতৃত্ব, জীবিত উদ্ধার মা ও শিশু সিটি করপোরেশন বাদে বিরোধী আসনে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, কর্মসংস্থান তৈরি করবে তরুণরা: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর হারারে টেস্টে বাংলাদেশের হতাশা, বড় লিড গড়ছে জিম্বাবুয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন কঠিন হচ্ছে? নতুন নীতিতে কী কী বদলাল ইসরায়েল কি হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন? মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার
  • হবু স্বামীর সাথে আলাপ—হালাল না হারাম?

    হবু স্বামীর সাথে আলাপ—হালাল না হারাম?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিয়ে মানুষকে শালীনতা, পবিত্রতা এবং পরিপূর্ণ জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করে। মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই বিয়ের প্রথা চলে আসছে। ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তার জন্য দেরি না করে বিয়ে করা ইমানের একটি দায়িত্ব।

    নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বোখারি : ৫০৬৫, মুসলিম : ১৪০০)

    এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বিয়ে করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ, দিন বা মাস ঠিক করে দেওয়া হয়নি; বরং সামর্থ্য হলে দেরি না করে বিয়ে করে নেওয়াই উত্তম।

    অবশ্য বর্তমান সময়ে বিয়ের জন্য ভালো পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করা একটি জটিল কাজ। তাই বিয়ের আগে পাত্রী দেখে নেওয়া, ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া নবীজির (সা.) সুন্নত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যেন দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’

    বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা অন্তরে গোপন রেখেছিলাম। এরপর আমি গোপনে তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখি, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তুলল। এরপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ (আবু দাউদ : ২০৮২)

    তবে আমাদের সমাজে অনেকে পাত্রী দেখার পর একটি বড় ভুল করেন। বিয়ের কথা মোটামুটি পাকাপোক্ত হলে হবু স্বামী পাত্রীর সঙ্গে নিজের বৈধ স্ত্রীর মতো কথাবার্তা শুরু করেন। তাই প্রশ্ন উঠছে, হবু স্বামীর সঙ্গে কথা বলা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না।

    চলুন, জেনে নিই শরিয়তের নির্দেশনা—

    মাদরাসাতুত তাকওয়া ঢাকা’র মুফতি শায়খ ইবনুল কালাম বলেন, কোনো নারীর জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সঙ্গে কথা বলা বৈধ নয়। বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগে যেহেতু হবু স্বামী গায়রে মাহরামই থাকেন, সে জন্য হবু স্বামীর সঙ্গেও কথা বলা বৈধ নয়।

    তবে হাঁ, বিয়ের আগে জরুরি কিছু বিষয় জানার থাকতে পারে, এমন প্রয়োজনীয় বিষয় জানার জন্য কথাবার্তা বলা যেতে পারে। তবে কথাবার্তায় উভয়পক্ষকেই ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে; কোনো ধরনের কোমলতা অবলম্বন করা যাবে না।

    প্রসঙ্গত, বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হয়ে যাওয়ার পর খুব দ্রুতই বিয়ে সম্পন্ন করে ফেলা উচিত। এতে ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই কল্যাণ হবে। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৯/৫৩০, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়া : ১০/১২৬)

    উল্লেখ্য, সমাজের নিদারুণ নিয়মতন্ত্রের মধ্যে পড়ে অনেক যুবক-যুবতীরা ঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারে না। ফলে তারা মনোকষ্টে ভোগে। আবার কেউ কেউ বিয়ে করতে চাইলেও পছন্দমতো পাত্র কিংবা পাত্রী না পাওয়ায় বিয়ে হয় না। সহজে বিয়ে হওয়ার জন্য বেশি বেশি সালাতুল হাজত নামাজ পড়ে দোয়া করতে হবে। কোরআনে বর্ণিত বিয়ের জন্য বিশেষ একটি দোয়া রয়েছে। প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে হবে। নামাজের পর ছাড়াও পড়া যাবে। যে কোনো সময়ে যে কোনো জায়গায় পড়া যাবে।

    দোয়াটি হলো, رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا উচ্চারণ : রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

    অর্থ : হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতলকারী হবে। আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শ করুন। (সুরা ফুরকান : ৭৪)

    কোনো কোনো আলেম বলেন, যেসব যুবক-যুবতীদের বিবাহের বয়স অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না, তাদের মধ্যে যুবকরা ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি চেপে ধরে এবং যুবতীরা বাম হাত দিয়ে ডান হাতের কব্জি চেপে ধরে প্রত্যহ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগে ৪০ বার হিসাবে ৪০ দিন পর্যন্ত আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘ইয়া ফাত্তাহু’ (يا فتّاح) -অর্থ হে উন্মুক্তকারী বা প্রস্তুতকারী-পড়লে দ্রত বিয়ে হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, চল্লিশ দিন সুরা মুমতাহিনা তেলাওয়াত করলে দ্রত বিয়ে হয়।

    দ্রুত বিয়ে হওয়ার কোরআনি আমল

    কোরআনের কয়েকটি আয়াত ও সুরা নিয়মিত পাঠে আল্লাহর ইচ্ছায় দ্রুত বিয়ে হতে পারে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—

    সুরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা

    فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ উচ্চারণ : ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

    অর্থ : এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারও বন্দেগি নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি। (সুরা তাওবা : ১২৯)

    সুরা কাসাসের এ আয়াত পাঠ করা

    • فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

    উচ্চারণ : ‘ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।’ (সুরা কাসাস : ২৪)

    হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন খুব একাকী ও বিষণ্নতা অনুভব করতেন তখন তিনি এ আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করতেন। দ্রুত বিয়ের ক্ষেত্রে আপনিও এ আয়াতের আমলটি করতে পারেন।

    সুরা ইয়াসিন পাঠ করা

    সুরা ইয়াসিন বিয়েসংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। এই সুরাটি পড়ার একটি বিশেষ আমল রয়েছে। যাদের বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু বিয়ে হয় না, তাদের জন্য এ আমলটি কার্যকরী। আমলটি হলো সুরা ইয়াসিনে ৭টি মুবিন রয়েছে। প্রতিদিন সকালে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে লাল হয়ে উঠে, তখন পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন পড়া। আর যখনই ‘মুবিন’ শব্দ উচ্চারিত হবে, তখনই শাহাদাত আঙুল দিয়ে পেছনের দিকে অর্থাৎ সূর্যের দিকে ইশারা করা। এ ছাড়াও দ্রুত বিয়ে হওয়ার জন্য প্রতিদিন ১১ বার সুরা দোহা পড়ার আমলও করা যেতে পারে।


    দৈএনকে/ জে. আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ