ইইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ কোটি টাকার দুর্নীতির পুনঃতদন্ত দাবি

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো জোনে কর্মরত থাকাকালে 'নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে কাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে মোট ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত বিল প্রদানের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারা অনুযায়ী উপ সহকারী প্রকৌশলী মুহাইমিনুল ইসলামবিরুদ্ধে "অসদাচরণ" ও "দুর্নীতি"র দায়ে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে তিনি এ মামলা থেকে অব্যাহতি বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে উক্ত বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মুহাইমিনুল ইসলাম এই দায়মুক্তির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন ইইডির তৎকালীন বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোয়াজ্জেম হোসেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের ভাতিজা ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য হওয়ার সুবাদে মীর মোয়াজ্জেম হোসেন অধিদপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী মুহাইমিনুল ইসলাম। যিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি সিন্ডিকেট বাণিজ্য পরিচালনা করতেন। নিয়ম অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও, মুহাইমিনুল ইসলাম বিভাগীয় মামলার তদন্ত কমিটির দায়িত্বে বসানো হয় তাঁরই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক 'গুরু' মীর মোয়াজ্জেম হোসেনকে। ফলে তদন্ত কমিটিকে সম্পূর্ণ প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে তদন্ত প্রতিবেদনে মুহাইমিনুল ইসলাম 'দোষমুক্ত' ঘোষণা করা হয় এবং এর ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় তাঁকে চূড়ান্ত অব্যাহতি দেয়।
বিশাল অংকের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পর যেখানে বিভাগীয় শাস্তি কিংবা পদাবনতি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মুহাইমিনুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নিজেকে আরো শক্তিশালী রুপে প্রকাশ করেন। বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেও তিনি তাঁর সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও আওয়ামী ঘরানার এসব বিতর্কিত কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকায় শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে খোদ ইইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে উপ সহকারী প্রকৌশলী মুহাইমিনুল ইসলাম নামে সাজানো তদন্তের মাধ্যমে খালাস পাওয়া এই বিভাগীয় মামলাটি অবিলম্বে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন দপ্তরের সৎ ও বঞ্চিত কর্মকর্তারা।