বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

ট্যাটু করলে অজু-গোসল হবে কি, কী বলে ইসলাম?

ট্যাটু করলে অজু-গোসল হবে কি, কী বলে ইসলাম?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইসলামি শরিয়তে শরীরে স্থায়ীভাবে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে একাধিক হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) উল্কি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)

অন্য একটি হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণীর ওপর অভিসম্পাত করেছেন। একই হাদিসে সুদগ্রহীতা ও সুদদাতার কথাও উল্লেখ রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)

এ কারণে ইসলামি বিধান অনুযায়ী শরীরে স্থায়ী ট্যাটু করা হারাম ও কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ট্যাটুর কারণে অজু বা গোসলের শুদ্ধতার বিষয়টি নির্ভর করে এটি শরীরে কী ধরনের আবরণ তৈরি করছে তার ওপর। যদি ট্যাটুর ওপর এমন কোনো স্তর থাকে, যা শরীরের ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে তা অপসারণ করে অজু বা গোসল করতে হবে। তবে ট্যাটুর রং বা কালি যদি ত্বকের নিচে থাকে এবং ত্বকের ওপর পানি পৌঁছাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে, তাহলে অজু-গোসল শুদ্ধ হবে।

অর্থাৎ ট্যাটু থাকলেই অজু-গোসল হবে না—বিষয়টি এমন নয়। ত্বকের ওপর পানি পৌঁছাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, সেটিই এখানে বিবেচ্য।

এ বিষয়ে হজরত সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (রহ.)-এর সঙ্গে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর একটি বর্ণনাও পাওয়া যায়। এক ব্যক্তি ছবি আঁকার বিষয়ে শরিয়তের বিধান জানতে তার কাছে এলে ইবনে আব্বাস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেন। সেখানে ছবি আঁকার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। তবে গাছপালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকার অনুমতির কথাও বর্ণনায় রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা ত্বীন, আয়াত: ৪)

আর সুরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে শয়তানের একটি বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সে মানুষকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তনের নির্দেশ দেবে। আয়াতের ওই অংশে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

তাই ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে স্থায়ী ট্যাটু করার বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত। কেউ আগে ট্যাটু করে থাকলে তা অপসারণের ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। আর তওবা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা উচিত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন