নবীনগরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আর কিছুদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে বইছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। এ বছর উপজেলার ১৩০টিরও বেশি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে সুন্দর ও সফল করতে এখন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন নবীনগরের মৃৎশিল্পীরা।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। নিখুঁতভাবে রূপ দিতে কারিগরদের দম ফেলার ফুরসত নেই। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে বোধন ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ পূজা এবং ২০ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রস্তুতি ও কারিগরদের হিসাব অনুযায়ী ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে মূল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
প্রতিমা তৈরির কারিগর মনেন্দ্র পাল (৫৭) জানান, প্রতি বছর এই সময়ে তিনি ৫০ থেকে ৫৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। কিন্তু এ বছর কাজের চাপ কিছুটা কম থাকায় তিনি ৩৪টি মণ্ডপের কাজ করছেন। এছাড়া প্রতিমার দাম ও উপকরণের খরচ নিয়ে কারিগর বিজয় পালসহ অন্য শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরিতে যে পরিশ্রম ও খরচ হয়, সে তুলনায় কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত।
নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক সঞ্জয় সাহা বলেন, “এ বছর নবীনগর উপজেলায় ১৩০টিরও বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রশাসন নিরাপত্তা সহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।