অজুর পর গালি দিলে কি অজু ভেঙে যায়?

পবিত্রতা মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আত্মিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আল্লাহর ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো অজু। নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের মতো ইবাদতের আগে অজুর বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সবসময় অজু অবস্থায় থাকার মধ্যেও রয়েছে আত্মিক প্রশান্তি ও পবিত্রতার অনুভূতি।
পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের প্রতি আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার কথা কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারী এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২)
তবে দৈনন্দিন জীবনে রাগ, উত্তেজনা বা অসাবধানতার কারণে অজু থাকা অবস্থায় কারও মুখ থেকে গালি বা অশালীন কথা বেরিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অনেকের প্রশ্ন থাকে—গালি দিলে অজু ভেঙে যায় কি না।
ফিকহের বিধান অনুযায়ী, অজু করার পর কাউকে গালি দেওয়া বা অশালীন কথা বললে অজু ভেঙে যায় না। অজু ভঙ্গের জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। গালি দেওয়া বা অশালীন কথা বলা সেসব কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই শুধু গালি দেওয়ার কারণে নতুন করে অজু করা ফরজ হয় না।
তবে গালি দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অন্যায়। অজু না ভাঙলেও এ ধরনের কথাবার্তা একজন মুমিনের শিষ্টাচার ও আত্মিক পবিত্রতার পরিপন্থী। তাই কেউ এমন আচরণ করে ফেললে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেউ চাইলে নিজেকে সংযত করার উদ্দেশ্যে নতুন করে অজুও করতে পারেন।
অন্যকে গালি দেওয়া ও কষ্টদায়ক কথা বলা ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দনীয়। ঠাট্টা-মশকরার ছলেও কাউকে অপমান করা বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে ইমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহজাব: ৫৮)
অতএব, গালি দেওয়ার কারণে অজু ভেঙে না গেলেও এটি মুমিনের জন্য পরিহারযোগ্য আচরণ। রাগ বা উত্তেজনার সময় নিজেকে সংযত রাখা এবং সুন্দর ভাষায় কথা বলাই ইসলামের শিক্ষা।