বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

টিসিবির কার্ড পেতে নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ, অগ্রাধিকার পাবেন যারা

টিসিবির কার্ড পেতে নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ, অগ্রাধিকার পাবেন যারা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা ও উপকারভোগী নির্বাচনের নিয়ম নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশিকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি কারা টিসিবির সুবিধা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’-এ এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নির্দেশিকাটি জারি করা হয়।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে—এমন দুস্থ পরিবারও অগ্রাধিকার পাবে।

একই পরিবারের একাধিক সদস্য টিসিবির সুবিধাভোগী হতে পারবেন না। কার্ডের জন্য উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডিও প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি উপকারভোগীর এনআইডির বিপরীতে নিজের নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

নির্বাচিত উপকারভোগীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর তথ্য টিসিবির সেবা অ্যাপের মাধ্যমে তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে উপকারভোগী নির্বাচন ও তথ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।

নতুন নির্দেশিকায় সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারক কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এসব কমিটি উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভান্ডার তৈরি, কার্ড বিতরণ এবং পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, টিসিবির কার্ডধারী প্রতি পরিবারকে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি দেওয়ার কথা রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দেওয়া হবে পাঁচ কেজি চালও। সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের সংখ্যা, পরিমাণ ও মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।

পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে পারবে সরকার।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া কার্ডগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় উপকারভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত নজরদারি জোরদারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের তদারক কমিটিতে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখার কথা বলা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমাজসেবা কর্মকর্তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা এবং টিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হবে।

উপজেলা পর্যায়েও তদারক কমিটি থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকবে ‘ট্যাগ টিম’। এসব টিম টিসিবির ডিলারের দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে কার্ডধারীদের কাছে নির্ধারিত পণ্য যথাযথভাবে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে।

ডিলারের দোকানের সামনে টিসিবির পণ্যের ভোক্তা মূল্যতালিকাও প্রদর্শন করতে হবে। পণ্য পাওয়ার তারিখ ও সময়, মূল্য এবং বিতরণ করা পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ কার্ডধারীদের জানাতে হবে। পণ্য বিক্রিতে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনাও রয়েছে।

এ ছাড়া টিসিবির নিজস্ব অথবা ভাড়া করা গুদামে পণ্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুদাম পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেন বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যে দুই লাখ টন ভোজ্যতেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং চিনি ৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

টিসিবি সূত্র জানায়, সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পণ্য বিক্রিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ভর্তুকির পরিমাণ কমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন