বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

সন্তানকে নেক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন যেভাবে

সন্তানকে নেক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন যেভাবে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শিশুরা মা-বাবার জন্য আল্লাহর দেওয়া বড় নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে সন্তানকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে সুশিক্ষা, ভালোবাসা ও সুন্দর পরিবেশে বড় করে তুলতে পারলে তার প্রভাব শুধু দুনিয়াতেই নয়, মৃত্যুর পরও মা-বাবার জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মানুষ মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিন ধরনের আমল জারি থাকে—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৩৬৫১)

তাই সন্তানকে নৈতিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। শিশুর বেড়ে ওঠার সময় কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

গুনাহমুক্ত পরিবেশ

শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বড় প্রভাব রয়েছে। তাই ঘরে এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে সে ভালো আচরণ ও ইতিবাচক মূল্যবোধ শেখার সুযোগ পায়। শিশুর সামনে অশোভন কথা বলা, খারাপ আচরণ করা কিংবা অনৈতিক কোনো কাজ থেকে মা-বাবাকে বিরত থাকা উচিত।

পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব শেখাতে হবে। নিয়মিত গোসল করা, হাত-পা পরিষ্কার রাখা, পরিপাটি পোশাক পরা এবং নিজের বই-খাতা ও খেলনাসহ প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুকে ছোট মনে করে তার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শিশুর সুস্থতার পাশাপাশি তার শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।

সৃজনশীল খেলনার ব্যবস্থা

শিশুর বয়স ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খেলনা নির্বাচন করা উচিত। সৃজনশীল ও চিন্তাশক্তি বাড়ায়—এমন খেলনা শিশুর শেখার আগ্রহ তৈরি করতে পারে। ঘরের পাশাপাশি বাইরে খেলাধুলার সুযোগও তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।

তাই শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শিশুর কল্পনাশক্তি, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে—এমন খেলনা বেছে নেওয়া ভালো। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা নিষিদ্ধ খেলনা থেকে বিরত থাকা উচিত।

স্ক্রিনে আসক্তি এড়ানো

শিশুকে অতিরিক্ত ভিডিও গেম, কার্টুন বা অন্য কোনো স্ক্রিনভিত্তিক বিনোদনে অভ্যস্ত না করাই ভালো। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটালে শিশুর ঘুম, দৈনন্দিন রুটিন ও সামাজিক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অনেক সময় কার্টুন বা মোবাইল ছাড়া শিশু খাবার খেতে চায় না। শুরু থেকেই এমন অভ্যাস তৈরি না করে প্রকৃতি দেখা, গল্প শোনা, পাখি-পশু পর্যবেক্ষণ কিংবা সৃজনশীল খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

দ্বীনি জ্ঞান শেখানো

সন্তানকে প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পবিত্রতা, নামাজ, কোরআন শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী শেখানো যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ভালো-মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিক কাজ সম্পর্কে শিশুকে ধীরে ধীরে ধারণা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা যেন শুধু মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দৈনন্দিন আচরণ ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়—সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

নামাজের অভ্যাস তৈরি করা

শৈশব থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে। ছোটবেলায় নিয়মিত নামাজের অভ্যাস গড়ে উঠলে পরবর্তী জীবনে তা ধরে রাখা সহজ হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করো। কেননা কল্যাণ লাভ অভ্যাসের ব্যাপার।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৫০৯৪)

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও ভাষার বিকাশে বই পড়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুরা গল্প শুনতে ও পড়তে আগ্রহী হয়। তাই বয়স উপযোগী গল্পের পাশাপাশি নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনের শিক্ষণীয় ঘটনা এবং ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।

বই পড়ার মাধ্যমে শিশুর শব্দভান্ডার ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা বাড়ে। নতুন শব্দ ও বাক্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতিও তার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

সন্তান মা-বাবার জন্য একটি আমানত। তাই ভালোবাসা, সঠিক শাসন, শিক্ষা এবং সুন্দর পরিবেশের সমন্বয়ে শিশুকে নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা প্রয়োজন। শৈশব থেকেই সঠিক মূল্যবোধের চর্চা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন