বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ শুরু, সমীক্ষার প্রস্তাব ২৩ কোটি টাকা

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ শুরু, সমীক্ষার প্রস্তাব ২৩ কোটি টাকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

উত্তরাঞ্চলের বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করতে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সমীক্ষার প্রস্তাব অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদীর বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীশাসন, পানি সংরক্ষণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বাসসকে বলেন, প্রস্তাবিত সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর নির্মিত সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ষায় যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সেখানে বাঁধটি বন্যা প্রতিরোধের পাশাপাশি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বাসসকে বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ড্রেজিং পরিকল্পনা করা হলে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান ও ভাটির পানিপ্রবাহ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বাসসকে বলেন, প্রস্তাবটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরবর্তী ধাপের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রমে গতি আসে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ভুগছে। বর্ষায় ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার বসতভিটা হারায়, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি পুনরুদ্ধার করা জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাসস


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন