টেন্ডার থেকে কমিশন বাণিজ্য! বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, তার এক সহযোগী কর্মকর্তা এবং কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন, কমিশন গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন (আসবাবপত্র) প্রকল্পের একাধিক কার্যাদেশ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে কয়েকটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন বৃদ্ধি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিল পরিশোধ ও জামানতের চেক ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ এবং একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, একটি সীমিত সংখ্যক ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ বড় প্রকল্প পাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, এসব প্রকল্প পরে অন্য ঠিকাদারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়, ফলে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, "শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।