নড়াইলে ৭ শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

নড়াইল সদর উপজেলায় মাদ্রাসার অন্তত সাত শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা এলাকার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
মাহাবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় তাফসিরুদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
নড়াইল সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট রাতে তাফসিরুদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন শিক্ষক মাহাবুবুর।
পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসায় আসা তার মাকে বিষয়টি জানায়। অভিভাবক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ শিক্ষার্থী একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ তোলে।
এছাড়া পূর্বে নির্যাতনের শিকার হয়ে আরেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে বলেও জানা যায়। সব মিলিয়ে সাতজন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের তথ্য উঠে আসে।
এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, শিক্ষার্থীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।