ফায়ার সার্ভিসের ডিজি জায়েদ কামালের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে আসা একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার সরকারি নির্ধারিত বেতন-ভাতা ঠিক কত? চাকরির মেয়াদের অর্জিত আইনি আয় দিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা সংলগ্ন স্থান, ডুমনি, পূর্বাচল ও পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে কোটি কোটি টাকার একাধিক প্লট, অভিজাত ফ্ল্যাট ও জমির মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব?—এমন প্রশ্নই এখন জোরেশোরে উঠছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিতর্কিত মহাপরিচালক (ডিজি) জায়েদ কামালকে ঘিরে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিগত দুটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার তোয়াক্কা না করে সীমাহীন দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সংস্থাটির ডিজি জায়েদ কামাল এবং তার অধীনস্থ অর্থ ও প্রশাসন শাখা যৌথভাবে এই সিন্ডিকেট ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এই বিপুল আর্থিক অনিয়মের সূত্র ধরেই তদন্তে বেরিয়ে আসছে তার ও তার পরিবারের নামে গড়ে ওঠা অঢেল সম্পদের খতিয়ান।
তথ্য ও নথি পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে এ সমস্ত সম্পদের সবগুলোই শেখ হাসিনা সরকারের আমলের অর্জন করা।
দাপ্তরিক দলিলে যে সম্পদের প্রমাণ:
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ও নিরপেক্ষ তথ্যসূত্রে প্রাপ্ত গোপন দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম লোহাগাড়ার সন্তান ডিজি জায়েদ কামাল এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের যৌথ ও একক নামে একাধিক প্রাইম লোকেশনে স্থাবর সম্পদ নিবন্ধিত রয়েছে:
১. জোয়ার সাহারা (বসুন্ধরা সংলগ্ন এলাকা): ২০১৬-১০০৫১৭ নম্বর জোতে, ৩০-১২-২৪ তারিখে সম্পাদিত ৯৬৮০ নম্বর দলিলে ০.৪৯০১ একর জমির ওপর ১১০০ বর্গফুটের অভিজাত ফ্ল্যাট ও পার্কিং।
২. ডুমনি মৌজা: ৬/১৯ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক মূল্যবান জমি (৪ জনের যৌথ মালিকানায়)।
৩. ডুমনি মৌজা (দ্বিতীয় দাগ): ১৪৩০/১৯ নম্বর জোতে আরও ৪.৯৫ শতক জমি (৪ জনের যৌথ মালিকানায়)।
৪. পূর্বাচল (কুতুবপুর মৌজা): ছোলালাই ভূমি অফিসের অধীনে ৪৫৮৬ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক জমির প্লট।
৫. রূপগঞ্জ (নাওড়া মৌজা): ৯৯৭৬ নম্বর জোতে ৮.২৬ শতক জমি।
আয়ের সাথে সম্পদের অসঙ্গতি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:
একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার মূল বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা হিসাব করলে দেখা যায়, সম্পূর্ণ চাকরি জীবনে এই ধরনের একাধিক বহুমূল্য প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকানা অর্জন স্বাভাবিক উপায়ে অসম্ভব। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক পদের প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থ-প্রশাসন বিভাগের সহায়তায় নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থেই এসব স্থাবর সম্পদ গড়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
সরকারি পদের অপব্যবহার, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।