সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম বৃদ্ধি স্ত্রীদের নামে প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদারি লাইসেন্স ও লাজফার্মায় বিনিয়োগ নামে-বেনামে সম্পদের অভিযোগ, ডেপুটি কমিশনার সাবরিনা আমিনের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়ার আশা শামা ওবায়েদের ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত, ডিপিপি তৈরির নির্দেশ বেক্সিমকোর তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ জালিয়াতি, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে তিন মামলা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগে কারখানা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দালাল চক্রের মূল হোতা আটক, উপরমহলের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!
  • নামে-বেনামে সম্পদের অভিযোগ, ডেপুটি কমিশনার সাবরিনা আমিনের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান

    নামে-বেনামে সম্পদের অভিযোগ, ডেপুটি কমিশনার সাবরিনা আমিনের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকারি চাকরিতে যোগদানের এক যুগের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের উপকমিশনার সাবরিনা আমিনের বিরুদ্ধে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, আবাসিক হোটেল, জমি, আবাসন প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারসহ তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং অর্থের প্রকৃত মালিকানা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি।

    দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবরিনা আমিন, তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বশির মিয়া খাদেম, ভাই রিয়াদ আরাফাত আমিন এবং ভাইয়ের স্ত্রী আফনান এলাহি বৃষ্টির সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানাধীন। 

    সাবরিনা আমিন ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৩ সালে কাস্টমস ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি উপকমিশনার পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর তেজগাঁও বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কর্মপরিচিতি নম্বর ৩০০৩৩৬।

    দুদকের নথিতে উল্লেখ করা স্থাবর সম্পদের তালিকায় রাজধানীর বনানীতে চারটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে একটি প্লট, ধানমন্ডির দুটি ঠিকানায় মোট ১১টি ফ্ল্যাট এবং উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে একটি নয়তলা ভবনে আবাসিক হোটেলের তথ্য রয়েছে। ধানমন্ডির রোড-২-এর ৯ নম্বর বাড়িতে পাঁচটি এবং রোড-১-এর ১৩/খ নম্বর বাড়িতে ছয়টি ফ্ল্যাট থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্জনের উৎস যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ‘মিউচুয়াল প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এ তাঁর ৮৬ হাজার শেয়ার, ‘মিউচুয়াল মাল্টি অ্যাগ্রো লিমিটেড’-এ ১ হাজার ৫০০ শেয়ার এবং ‘মিউচুয়াল অ্যাপারেলস লিমিটেড’-এ ১ হাজার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া ‘মিউচুয়াল লিভিং লিমিটেড’-এর অন্তত ৩০০ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। গুলশান-১-এর ৪২ নম্বর প্লট এবং ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের ২ নম্বর প্লটে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প চলমান বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ‘মিউচুয়াল অ্যাপারেলস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর ভাই রিয়াদ আরাফাত আমিনের নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সম্পত্তির অতিমূল্যায়ন দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকার ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কারখানার যন্ত্রপাতি কেনার নামে সিঙ্গাপুরে ২৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ঋণের শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠানের স্টিল ভবনের তৃতীয় তলার ৭২ হাজার বর্গফুট জায়গা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে জনতা ব্যাংক পৃথক তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

    সাবরিনার ভাই রিয়াদ আরাফাত আমিনের বিরুদ্ধেও একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা গ্রুপ ও দিলকুশার ইউনুস সেন্টারের মালিক খান মোহাম্মদ আমীর হোসেনের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের পাশাপাশি আয়কর নথিতে ২৫ কোটি টাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া সাবরিনার ভাইয়ের স্ত্রী আফনান এলাহি বৃষ্টির কাছে ৩০ কোটি টাকা নগদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই অর্থের বৈধ উৎস এবং প্রকৃত মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট তথ্য।

    সাবরিনার স্বামী মোহাম্মদ বশির মিয়া খাদেম একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল তিনি এক দিনেই আট কোটি টাকার শেয়ার কেনেন। এই বিনিয়োগের অর্থের উৎস হিসেবে সাবরিনা আমিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া স্বামীর নামে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসন প্রকল্পের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে অ্যাপোলো হাসপাতাল-সংলগ্ন একটি প্লটে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনের তথ্যও নথিতে রয়েছে।

    সাবরিনা আমিনের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সাবেক কমিশনার একেএম নূরুজ্জামানের কাছ থেকে ৮৬ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দুদকের নথি অনুযায়ী, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই অর্থ লেনদেন হয়েছে। এ অর্থের উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং ধামরাইয়ের কালামপুর মৌজায় ২০ একর জমি কেনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই ও বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

    দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একজন পরিচালক জানিয়েছেন, অভিযোগটি কমিশনের তফসিলভুক্ত হওয়ায় যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

    অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাবরিনা আমিনের বক্তব্যও পাওয়া গেছে। তিনি সম্পদ থাকার তথ্য অস্বীকার করেননি; তবে তাঁর দাবি, এসব সম্পত্তি পৈতৃক ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ‘আরাম নারিকেল তেল’ কোম্পানির মালিক ছিলেন। সাবরিনা আমিনের ভাষ্য, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টননামার মাধ্যমে তিনি পেয়েছেন এবং এসব তথ্য তাঁর আয়কর নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। সরকারও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, আয়কর নথিসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করলে সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

    একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ, ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা এবং পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও বৈধ ব্যবসায়িক বিনিয়োগকে অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কোন সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত, কোন লেনদেনে অনিয়ম হয়েছে এবং কার প্রকৃত মালিকানা রয়েছে—সবকিছুই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগও প্রয়োজন হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন