সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত, ডিপিপি তৈরির নির্দেশ বেক্সিমকোর তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ জালিয়াতি, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে তিন মামলা শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগে কারখানা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দালাল চক্রের মূল হোতা আটক, উপরমহলের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাম ও উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরকে আহ্বান স্পিকারের পোশাকশিল্পে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা: জামায়াত আমির নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্ব জরুরি: রাষ্ট্রপতি
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দালাল চক্রের মূল হোতা আটক, উপরমহলের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দালাল চক্রের মূল হোতা আটক, উপরমহলের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া ও দালাল সিন্ডিকেটের তৎপরতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

    রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধায় হাসপাতালের ইর্মাজেন্সির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

     আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি রাশেদুল হক সজীব। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের লিখিত সতর্কতা, জরিমানা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপরমহলের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকেই দাবি করেন। তবে প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে  সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি  হয়েছে। 

    একাধিক সূত্রের অভিযোগ, মাসুম দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে সক্রিয় রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

    এ ছাড়া চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিটামিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও মেডিসিন পণ্য ডাক্তারদের মাধ্যমে রোগীদের মধ্যে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে, যেগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব পণ্য সরবরাহে হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

    ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো রবিবারও ১ লা নভেম্বর মাসুম হাসপাতাল থেকে রোগী বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ তার আচরনে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তাকে আটক করা হয় বলে জানা যায়।আটকের পর বিষয়টি থানায় জানানো হলে একপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে এনডিসি রাশেদুল হক সজীব আসেন বলে জানা যায়। 

    অন্যদিকে, কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করার পর ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়েও কেন কোনো লিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এনডিসি রাশেদুল হক সজীব জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বা তার সম্মুখে ঘটনা ঘটার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তার উপস্থিতিতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি কিংবা দালালির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই কোনো মামলা বা জরিমানা না করে মৌখিকভাবে সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, মাসুমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। মাসুম তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। কাউকে সরাসরি অপরাধ করতে না দেখলে আটক করা যায় না।

    উপরমহলের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ফোনকল বা কারও নির্দেশনা ছিল না।

    এনডিসি আরও দাবি করেন, পুলিশ মাসুমকে আটক করেনি। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দালাল হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি বলে জানানোয় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    তবে  পুলিশের ভাষ্য তাকে  পুলিশ সদস্য আটক করেন। পুলিশ সদস্যরা জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মাসুমকে বিভিন্ন রোগীর সঙ্গে নানা ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। এসময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দালাল সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করা হয় বলে জানায় পুলিশ। আটকের সময় তার সঙ্গে মা, বোন, স্ত্রী কিংবা অন্য কোনো নারী ছিলেন না বলেও জানায় পুলিশের সদস্যরা। তবে আটকের পর এবং এনডিসি ঘটনাস্থলে আসার পর কয়েকজন নারী সেখানে উপস্থিত হন।

    পুলিশ আরও জানায়, মাসুমের বিরুদ্ধে দালালির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রথমবারের মতো তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এনডিসি জানিয়েছেন।

    এদিকে, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ কতটুকু নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধে হাসপাতাল প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন