বেক্সিমকোর তিন প্রতিষ্ঠানের ঋণ জালিয়াতি, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে তিন মামলা

ঋণ সুবিধা নিয়ে ভুয়া রপ্তানি বিলের মাধ্যমে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলেসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুমোদিত তিন মামলার মধ্যে প্রথমটিতে ২২ জন, দ্বিতীয়টিতে ২২ জন এবং তৃতীয়টিতে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
দুদকের অভিযোগ, স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস, আরবান ফ্যাশনস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি লেনদেন দেখানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
মামলাগুলোর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে ও বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এ এস এফ রহমান, তাঁর ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও এইচ শামসুদ্দোহা।
এ ছাড়া স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ঘটনায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের গ্রাহক স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও এসব ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির লেনদেন দেখিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৫৮২ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলারের অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এসব বিলের বিপরীতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ দশমিক ২৫ ডলার দেশে না এনে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ করেছে দুদক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি।
দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ইডিএফসহ ঋণ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। প্রকৃত পণ্য আমদানি না করেই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামেও ইডিএফসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করে প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি দুদকের।
তিনটি ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, পারস্পরিক যোগসাজশ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনটি নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।