ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাম ও উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও তিনজন। এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৪৮ জন।
সোমবার (২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯০০ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৯৫, চট্টগ্রামে ২৫২, খুলনায় ২৯৪, রাজশাহীতে ১৫৩, রংপুরে ৭১, বরিশালে ১৮৩ এবং সিলেটে ২২ জন ভর্তি হয়েছেন।
নতুন ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ জনে। আর ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৯৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ১৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর এ রোগে মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫৪৮ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬২৫ জন, রাজশাহীতে ৪৬, সিলেটে ১৪৫, চট্টগ্রামে ৩১১, বরিশালে ১৫০, ময়মনসিংহে ১০২, খুলনায় ১২৫ এবং রংপুরে ৩৯ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ১৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৫০৫ জনে। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ৯৯১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।