পছন্দের পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যে মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন ঘিরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া এবং পদায়ন ধরে রাখতে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ার চাপ তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও মাইকেল মহিউদ্দিন ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব জায়গায় পদায়ন পেতে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হতো বলে কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন ঘিরে নতুন করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই চক্রে মাইকেল মহিউদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং বদলির সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন ধরে রাখতে মাসে ১০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো। অর্থ না দিলে পদায়ন বাতিল বা বদলির হুমকি দেওয়া হতো বলেও কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।
বদলি ও পদায়ন ঘিরে অভিযোগের পাশাপাশি মাইকেল মহিউদ্দিনের নিজের কর্মস্থল পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ঢাকার খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন পান। খিলগাঁওকে আকর্ষণীয় কর্মস্থল হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা এই পদায়নের পেছনের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বদলি নিয়ে আলোচনা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এসেছে। ঢাকার গুলশানের গ্লোরিয়া জিন্স রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি স্থানে এ ধরনের আলোচনা হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। আবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
প্রচলিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ শ্রেণির সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একই শ্রেণির কর্মকর্তাদের পদায়নের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে এই নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। কোনো কোনো কর্মকর্তাকে ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে একাধিকবার বদলি করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।