বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরাজ-তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এগিয়ে বাংলাদেশ উড্ডয়নের আগে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৮৬ জন তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের আগে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেবপুরে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিডিএলজি সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৩১৫ কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ
  • সবুজায়নের কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন, গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    সবুজায়নের কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন, গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় গাছ লাগানো ও সবুজায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গণপূর্ত আরবরিকালচার বিভাগের দায়িত্ব থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রুহুল কুদ্দুস।

    অভিযোগ রয়েছে, মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় গাছ না লাগিয়েই সবুজায়ন কার্যক্রমের নামে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবস্থান সুসংহত করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    এ ছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং জাল ভোট প্রদানে সহায়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালত-সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয় উঠে এসেছে। এ ছাড়া ঢাকায় নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কিংবা কথিত সম্পদের উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের প্রকল্প দুটির বরাদ্দ, কার্যাদেশ, কাজের অগ্রগতি, বিল-ভাউচার, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অর্থ উত্তোলনের নথি যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তবে কী পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

    তদন্তে অনিয়ম বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের ক্ষতি নিরূপণ ও তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিও প্রতিষ্ঠিত হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন