বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ঢাবির ভূমিকা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ঢাবির ভূমিকা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই ঢাবির শিক্ষার্থীদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী আত্মত্যাগ করেছেন, যার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার সময়। এ প্রেক্ষাপটে এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ৫জি প্রযুক্তির মতো বিষয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বাস্তব দক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, নৈতিক শিক্ষা ও বহুভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও সমান মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন