বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

দুধ দাঁত অবহেলা নয়, শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ

দুধ দাঁত অবহেলা নয়, শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অনেক অভিভাবকই মনে করেন, দুধ দাঁত যেহেতু একসময় পড়ে যাবে, তাই এগুলোর যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে শিশুর দুধ দাঁত শুধু খাবার চিবানোর জন্যই নয়, বরং তার শারীরিক বৃদ্ধি, ভাষা শেখা এবং স্থায়ী দাঁতের সঠিক বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশুর মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় দুধ দাঁতের যত্নে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে শিশুর দুধ দাঁত উঠতে শুরু করে এবং ১১ থেকে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত ধাপে ধাপে থাকে। এই সময় সুস্থ দাঁত শিশুকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেতে সাহায্য করে। দাঁতে ব্যথা বা ক্ষয় হলে শিশু অনেক খাবার খেতে চায় না, যা তার পুষ্টি ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সঠিকভাবে কথা বলতে সহায়তা করে

শিশুর স্পষ্ট উচ্চারণ ও ভাষা বিকাশে দুধ দাঁতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জিহ্বা, ঠোঁট ও দাঁতের সমন্বয়ে বিভিন্ন শব্দ উচ্চারণ সম্ভব হয়। দুধ দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা সময়ের আগেই পড়ে গেলে শিশুর কথা বলায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে

দুধ দাঁত স্থায়ী দাঁতের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সংরক্ষণ করে। কোনো দুধ দাঁত আগেভাগে পড়ে গেলে পাশের দাঁতগুলো সেই ফাঁকা স্থানে সরে আসে। ফলে পরবর্তীতে স্থায়ী দাঁত সঠিকভাবে উঠতে পারে না এবং দাঁত বাঁকা বা এলোমেলো হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ক্ষয় হলে বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে

শুরুতে ছোট একটি ক্যাভিটি মনে হলেও চিকিৎসা না করলে তা দ্রুত সংক্রমণে রূপ নিতে পারে। এতে দাঁতে তীব্র ব্যথা, মাড়ি ফোলা, খাওয়ায় সমস্যা এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

শৈশব থেকেই গড়ে তুলুন ভালো অভ্যাস

শিশুর দাঁত ওঠার আগেই নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মাড়ি পরিষ্কার করার অভ্যাস করা ভালো। দাঁত ওঠার পর বয়স উপযোগী ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দুইবার ব্রাশ করানো উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়ানো, পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শিশুর দাঁত সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শিশুর দুধ দাঁত সাময়িক হলেও এর গুরুত্ব দীর্ঘমেয়াদি। শুরু থেকেই সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে মুখ ও দাঁতের নানা জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন