ধূমপান ত্বকে ডেকে আনে অকাল বার্ধক্য, বাড়ায় ক্যানসারের ঝুঁকিও

ধূমপান যে ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—এ তথ্য সবারই জানা। তবে অনেকেই জানেন না, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শরীরের বাইরের অংশেও সমানভাবে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ধূমপান ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি বয়সের আগেই বার্ধক্যের লক্ষণ ফুটিয়ে তোলে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই দুটি উপাদান ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে ত্বকে দ্রুত বলিরেখা, সূক্ষ্ম ভাঁজ এবং ঝুলে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এছাড়া সিগারেটে থাকা নিকোটিন রক্তনালিকে সংকুচিত করে, ফলে ত্বকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাবে ত্বক ধীরে ধীরে প্রাণহীন, ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে মুখ, হাত কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ বা অতিরিক্ত রঞ্জকতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়, যার ফলে চুল দ্রুত ঝরে পড়া, দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ধূমপান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বকের বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার মতো ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্যমতে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীরা এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।
অন্যদিকে, শরীরে কোনো ক্ষত বা অস্ত্রোপচারের পর ধূমপায়ীদের সুস্থ হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। কারণ রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে ক্ষত দ্রুত শুকাতে পারে না এবং সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী দাগ বা অস্বাভাবিক ক্ষতচিহ্ন তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ শরীরের পাশাপাশি ত্বকের তারুণ্য, চুলের স্বাস্থ্য এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ধূমপান পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। ধূমপান ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি কমতে শুরু করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।