আজ থেকে সরকারি রাজস্ব জমায় বাধ্যতামূলক ‘এ-চালান’

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘এ-চালান’ (স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থা) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ম্যানুয়াল বা সনাতন চালান পদ্ধতির ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি অর্থ দ্রুত ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট (টিএসএ)-এ জমা নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা ফি সংগ্রহ করতে পারবে না। বর্তমানে চালু থাকা পৃথক সংগ্রহব্যবস্থা বন্ধ করে সব অর্থ এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে থাকা সরকারি অর্থও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ-চালানে বেড়েছে রাজস্ব আদায়
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মে গত সাত অর্থবছরে ১৯ কোটির বেশি চালান সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অনলাইনে লেনদেনেও বড় অগ্রগতি
সর্বশেষ অর্থবছরে অনলাইনে চালানের সংখ্যা বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ব্যাংকের কাউন্টার বা ওটিসি (Over the Counter) সেবার মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
নাগরিক সেবায় বাড়বে গতি
অর্থ বিভাগের মতে, এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। অর্থ জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিজিটাল চালানের রসিদ তৈরি হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংক, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপ এবং ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ফি ও রাজস্ব পরিশোধ করা যাচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ায় সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হচ্ছে।
এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায়ের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। এছাড়া ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার কারণে ভুয়া চালান, জাল নথি এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছে সরকার।