৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

দুঃস্বপ্নের এক সেশন শেষে টেস্টে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড এড়ানোই ছিল বাংলাদেশের আসল চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জে অবশ্য উতরে গেল সফরকারীরা। কিন্তু শুরুর বাজে ব্যাটিংয়ে হতাশা কাটিয়ে স্কোরবোর্ডে সম্মানজনক পুঁজি দাঁড় করাতে পারল না বাংলাদেশ।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটের দিকে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর এই অলরাউন্ডার ফিরতেই নিভু নিভু করে জ্বলতে থাকা শেষ আশাটুকুও শেষ হয় অতিথিদের। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সদের বোলিং তোপে পড়ে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেট ৩৫ রান। ৪৮ বল খেলা মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ১১ রানে। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ফেরেন তিনি। প্যাট কামিন্সের করা অফস্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করে তৃতীয় স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারের হাতে ধরা পড়েন মিরাজ। আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
মিরাজের পরপরই ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের শর্ট ডেলিভারিতে গ্ল্যান্স করতে গিয়ে লেগ স্লিপে দাঁড়ানো নাথান লায়নের তালুবন্দী হন হাসান। ১০ রান করেন এই পেসার। শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা বাড়াচ্ছিল এই জুটি। স্টার্কের বলে শরীফুল অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে জমা পড়লে ভাঙে ২৫ রানের জুটি। ইনিংসে এই উইকেটেই সবচেয়ে বেশি রান পেয়েছে বাংলাদেশ। শরীফুলের ১৪ রানের ইনিংসটাও দলের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ। তাইজুল অপরাজিত থাকেন ১১ রানে।
বাংলাদেশকে অল্পতে রাখতে বড় ভূমিকা স্টার্কের। ব্যাট করতে নেমে ১২ রানেই ৫ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ৫ উইকেটই নেন এই পেসার। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের রীতিমতো কাঁপিয়ে ছেড়েছেন তিনি। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস ডাক মেরে ফেরেন। এই পরিসংখ্যানই বলছে, স্টার্কের গতি এবং সুইংয়ের কাছে কতটা অসহায় ছিল বাংলাদেশ। সবমিলে ১২ রানে ৬ উইকেট নেন এই বোলার।
সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর (৪২ বলে ৫ রান) লড়াকু ইনিংস থামে কামিন্সের দারুণ এক ডেলিভারিতে। ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।