বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন নয়, প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট: সিইসি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু পর্ন কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার একনেকে অনুমোদিত হলো ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প স্বামীর দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি কলকাতায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করছে সরকার শর্ত নয়, সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব: রিজভী বিশ্ববাজারে হালাল শিল্পের বড় সম্ভাবনা দেখছেন তথ্যমন্ত্রী সরকারি ব্যাংকে আমানত কতটা নিরাপদ, ৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি
  • ডারউইন থেকে গ্যাবা, টেস্ট ক্রিকেটের ১০ অবিশ্বাস্য জয়

    ডারউইন থেকে গ্যাবা, টেস্ট ক্রিকেটের ১০ অবিশ্বাস্য জয়
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাফল্য। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

    ডারউইনের এই সাফল্য শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় অঘটনের তালিকাতেও জায়গা করে নেওয়ার মতো ঘটনা। বাংলাদেশের এই জয়কে ঘিরে তাই ফিরে দেখা যাক টেস্ট ক্রিকেটের আরও কয়েকটি অবিশ্বাস্য জয়।

    ডারউইন, ২০২৬

    ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সফরের আগে জিম্বাবুয়ে ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা খুব একটা ছিল না।

    কিন্তু মাঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট শিকারে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৯৮ রানে। এরপর ব্যাট হাতে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তানজিদ হাসান।

    দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই।

    বেঙ্গালুরু, ২০২৪

    ভারতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের জয়ই ছিল বড় অঘটন। প্রথম দিন বৃষ্টিতে খেলা হয়নি। পরদিন মাত্র ৩১.২ ওভারে ৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।

    এরপর রাচিন রবীন্দ্রর সেঞ্চুরিতে বড় লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৪০৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও উইল ও'রুর্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাদের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে।

    শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ৮ উইকেটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড।

    ব্রিসবেন, ২০২৪

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ম্যাচ। চতুর্থ দিন সকালে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ১৫৬ রান। পরে লক্ষ্য নেমে আসে মাত্র ১০৩ রানে।

    ঠিক তখনই ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শামার জোসেফ। ট্রাভিস হেড ‘কিং পেয়ার’ পান, এরপর অ্যালেক্স ক্যারির স্টাম্পও ভেঙে দেন তিনি।

    জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ৯ রান। সেই অবস্থায় ভাঙা পা নিয়েও বোলিং করে জশ হ্যাজলউডকে আউট করেন জোসেফ। ১৯৯৭ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট জয় আসে। ক্যারিবীয়রা জেতে ৮ রানে।

    মাউন্ট মঙ্গানুই, ২০২২

    নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ও ছিল বড় অঘটন। ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করে ৩২৮ রান।

    বাংলাদেশের ব্যাটাররা সম্মিলিতভাবে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন। মুমিনুল হক করেন ৮৮ রান। মেহেদী হাসান আট নম্বরে নেমে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪৭ রান।

    এরপর বল হাতে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন এবাদত হোসেন। ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ধস নামান। ১৩৬ রানে ২ উইকেট থেকে স্বাগতিকরা অলআউট হয়ে যায় ১৬৯ রানে।

    শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।

    ব্রিসবেন, ২০২১

    অস্ট্রেলিয়ার গ্যাবায় ভারতের জয়কে শুধু অঘটন বললে কম বলা হবে। অ্যাডিলেডে ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর মেলবোর্নে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারত। কিন্তু ব্রিসবেন টেস্টের আগে চোটের কারণে দলের বোলিং আক্রমণ প্রায় অনভিজ্ঞ হয়ে পড়ে।

    ভারতের পুরো বোলিং আক্রমণের সম্মিলিত টেস্ট উইকেট ছিল মাত্র ১৩টি। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ছিল ১ হাজার ৪৬টি উইকেট।

    ১৯৮৮ সালের পর গ্যাবায় কোনো টেস্ট হারেনি অস্ট্রেলিয়া। সেই ইতিহাসও বদলে দেয় ভারত। শুভমান গিলের ৯১ এবং চেতেশ্বর পূজারার ২১১ বলের প্রতিরোধের পর অপরাজিত ৮৯ রানে দলকে জয় এনে দেন ঋষভ পান্ত। ভারত জেতে ৩ উইকেটে।

    অ্যান্টিগা, ২০০৩

    ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন নিজেদের স্বর্ণযুগ হারিয়ে ফেলেছে। সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ এগিয়ে থাকার পরও অ্যান্টিগা টেস্টে ঘটে অবিশ্বাস্য ঘটনা।

    অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৪১৮ রানের লক্ষ্য দেয়। চতুর্থ দিনের শুরুতে ৭৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপেও পড়ে স্বাগতিকরা।

    এরপর ব্রায়ান লারার দুর্দান্ত ব্যাটিং, শিবনারায়ণ চন্দরপলের সেঞ্চুরি ও রামনরেশ সারওয়ানের শতকে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। শেষদিকে ওমারি ব্যাংকসের ৮৪ রানের ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের পথে নিয়ে যায়।

    শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জয় পায় ক্যারিবীয়রা।

    হারারে, ১৯৯৮

    ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে তখন রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলী। বোলিংয়ে অনিল কুম্বলে। এমন দলের বিপক্ষেই হারারেতে ইতিহাস গড়ে জিম্বাবুয়ে।

    হেনরি ওলঙ্গার পাঁচ উইকেট এবং গ্যাভিন রেনি ও ক্রেগ উইশার্টের ১৩৮ রানের ওপেনিং জুটি স্বাগতিকদের এগিয়ে দেয়।

    ভারতের সামনে ২৩৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। কিন্তু ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানে জয় পায় জিম্বাবুয়ে।

    হারারে, ১৯৯৫

    নিজেদের মাত্র ১১তম টেস্টেই প্রথম জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী পাকিস্তান।

    গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের ডাবল সেঞ্চুরি, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের ১৫৬ এবং গাই হুইটালের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৫৪৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ে।

    এরপর হিথ স্ট্রিকের ৯০ রানে ৬ উইকেট শিকারে পাকিস্তান চাপে পড়ে। ফলোঅনে নেমে মাত্র ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

    চার দিন শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচ শেষ হয়। ইনিংস ও ৬৪ রানে জয় পায় জিম্বাবুয়ে।

    জ্যামাইকা, ১৯৯০

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগে তাদের মাটিতে জয় পাওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৭৪ সালের পর ইংল্যান্ডও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারেনি।

    কিন্তু জ্যামাইকা টেস্টে গল্প পাল্টে দেয় ইংল্যান্ড। ডেভন ম্যালকম ও অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বোলিংয়ে স্বাগতিক ব্যাটিং ভেঙে পড়ে।

    অ্যালান ল্যাম্বের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড বড় লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসেও ম্যালকম তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এরপর ম্যালকম ও গ্ল্যাডস্টোন স্মলের সম্মিলিত আট উইকেটে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

    দ্য ওভাল, ১৯৫৪

    টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার মাত্র দুই বছর পরই পাকিস্তান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায়।

    দ্য ওভালের কঠিন উইকেটে দুই দলের ব্যাটারদেরই সংগ্রাম করতে হয়েছিল। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে অসাধারণ ছিলেন ফজল মাহমুদ। ৬০ ওভারে ৯৯ রান দিয়ে তিনি নেন ১২ উইকেট।

    ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৬৮ রান। একপর্যায়ে ১০৯ রানে তাদের মাত্র ২ উইকেট পড়েছিল। এরপর পিটার মে-কে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফজল মাহমুদ।

    মাত্র ৩৪ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২৪ রানে জয় পায় পাকিস্তান। আর ফজল মাহমুদের নাম উঠে যায় টেস্ট ক্রিকেটের স্মরণীয় বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন